প্রকাশ :: ... | ... | ...

ঈদের রেশ কাটতেই চট্টগ্রামের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অস্বস্তি


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: ইয়াছির আরফাত

​ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ কাটতে না কাটতেই চট্টগ্রাম নগরের নিত্যপণ্যের বাজারে ফের অস্বস্তির কালো মেঘ। কোরবানির ঈদের পরবর্তী সময়ে বাজারে পণ্যের চাহিদা কিছুটা কমলেও, কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। নগরের কাজীর দেউড়ি, রিয়াজুদ্দিন বাজার ও কর্ণফুলী মার্কেটে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সবজি থেকে শুরু করে মাছ-মাংস—অধিকাংশ পণ্যের দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। ​বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। বিক্রেতারা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। একই চিত্র রসুন বাজারেও; মানভেদে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে। সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফেরার আশা থাকলেও পটল, ঢেঁড়স ও বরবটির মতো নিত্য প্রয়োজনীয় সবজি কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত। ​কোরবানির ঈদের পরপরই সাধারণত মাছ ও ফার্মের মুরগির চাহিদা কমে যাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রভাব খুব একটা পড়েনি। বাজারে দেশি মুরগি এখনো ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, ফার্মের মুরগির দাম ২০০ থেকে ২২০ টাকার আশেপাশে আটকে আছে। মাছের বাজারে ইলিশ ও বড় মাছের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিবহন খরচ বৃদ্ধিকে দুষছেন বাড়তি দামের জন্য। ​বাজার পরিস্থিতি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। নগরের কাজীর দেউড়ি বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. শামসুদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, "ঈদের খরচ সামাল দিতেই হিমশিম অবস্থা, তার ওপর বাজারের এই লাগামহীন দাম আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। নিয়মিত বাজার তদারকির কোনো বালাই নেই।" ​এদিকে, ব্যবসায়ীরা দায় পাল্টাচ্ছেন পাইকারি বাজারের ওপর। খুচরা বিক্রেতা মফিজুর রহমানের দাবি, "আমরা যেখানে পাইকারি দরে বেশি দামে কিনছি, সেখানে কম দামে বিক্রি করার সুযোগ কোথায়? পরিবহন খরচ আর আড়তদারের সিন্ডিকেট না ভাঙলে খুচরা বাজারে দাম কমার সম্ভাবনা কম।" ​বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন অধ্যাপক জানান, সরবরাহ চেইন সচল রাখা এবং পাইকারি বাজারে তদারকি বৃদ্ধি করলে অহেতুক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ​ঈদের পরবর্তী এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দাবি একটাই—দ্রুত বাজার স্বাভাবিক হোক, আর নিত্যপণ্য আসুক সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমানায়। ​