প্রকাশ :: ... | ... | ...

মীরসরাইয়ে তরমুজ চাষের কারণে কমে যাচ্ছে ডালের আবাদ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও আবাদি জমিতে দিন দিন কমে যাচ্ছে ডালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় ফসলের আবাদ। এর বিপরীতে দ্রুত বিস্তার ঘটছে তরমুজ চাষের, যা স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থা ও জীবন-জীবিকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন অর্থবছরে ডাল চাষে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে যেখানে মোট ডালের আবাদ ছিল ৬ হাজার ২শ ২৯ হেক্টর, তা ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭৭ হেক্টরে এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে আরও কমে হয় ৫ হাজার ৮শ ৫৭ হেক্টর। ফসলভিত্তিক পরিসংখ্যানেও একই চিত্র দেখা যায়। খেসারী ডালের আবাদ ৭৫০ হেক্টর থেকে কমে ৭২০ হেক্টরে নেমেছে। মুগ ডাল ২ হাজার ৮শ ৫০ হেক্টর থেকে কমে ২ হাজার ৬শ ৫০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। ফেলন (স্থানীয় ডাল) ২ হাজার ৬শ হেক্টর থেকে কমে ২ হাজার ৪শ ৬০ হেক্টরে নেমেছে। মসুর ডাল ১৬ হেক্টর থেকে কমে ১৫ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। মাশকলাই ও মটর ডালের আবাদেও ওঠানামা থাকলেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নেই। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে বহিরাগত তরমুজ চাষীরা উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও আবাদি জমিতে ব্যাপকভাবে তরমুজ চাষ শুরু করেছে। বিশেষ করে পাশ্ববর্তী জেলার সুবর্ণচর এলাকা থেকে আসা চাষীরা বড় আকারে জমি লিজ নিয়ে বা বিভিন্ন উপায়ে জমি দখল করে তরমুজ চাষ করছে। ফলে ধান, ডাল ও শাকসবজির মতো মৌলিক ফসলের আবাদ কমে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জমির মালিকদের অভিযোগ, তাদের সম্মতি ছাড়াই জমিতে তরমুজ চাষ শুরু করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা নিজ জমিতে চাষাবাদ করতে না পেরে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে গবাদিপশুর চারণভূমিও সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, তরমুজ একটি মৌসুমি ও স্বল্পস্থায়ী ফসল। এটি স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ধান, ডাল ও শাকসবজির বিকল্প হতে পারে না। অথচ অধিক লাভের আশায় কিংবা নিয়ন্ত্রণহীন চাষাবাদের কারণে তরমুজের বিস্তার বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতি ও কৃষি বৈচিত্র্যের সংকট দেখা দিতে পারে। উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, “বিগত কয়েক বছরের তুলনায় মীরসরাইয়ে ডালের আবাদ কমেছে। এর অন্যতম কারণ হিসেবে নোয়াখালীর সুবর্ণচর থেকে আসা তরমুজ চাষীদের কার্যক্রমকে দায়ী করা যায়।” এ অবস্থায় স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল দ্রুত পরিকল্পিত কৃষি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে করে মীরসরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী বহুমুখী ফসল চাষ আবারও ফিরিয়ে আনা যায়।