প্রকাশ :: ... | ... | ...

৭০-৮০% রাজস্ব আসে পরোক্ষ কর থেকে


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

দেশের মোট রাজস্ব আয়ের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই উৎসে আহরিত কর বা পরোক্ষ কর থেকে আসে, যা একটি অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেছেন, এ ধরনের করব্যবস্থা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং দেশের ব্যবসাকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপ্রতিযোগিতামূলক করে তুলছে। শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘চরচা’ আয়োজিত ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। নাসিম মঞ্জুর বলেন, পরোক্ষ করের অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকার জীবনযাত্রার খরচ অনেক ক্ষেত্রে পশ্চিমা শহরগুলোর সমপর্যায়ে পৌঁছে গেলেও নাগরিক সুবিধার মান সে তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অত্যন্ত বেশি। প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে ভ্যাট কাঠামো সহজ করে সর্বোচ্চ দুই থেকে তিনটি স্তরে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। পার্শ্ববর্তী অনেক দেশও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় করের হার কমিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও সরকার—তিন পক্ষই চরম চাপের মধ্যে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে এই চাপ কমানোর কার্যকর পদক্ষেপ দেখার প্রত্যাশা রয়েছে। সরকারের রাজস্ব সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও সেই অর্থ ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাপী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে নাসিম মঞ্জুর বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বড় বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের চাহিদা কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়াই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে করপোরেট কর কমানোরও আহ্বান জানান তিনি। বর্তমানে প্রচলিত সাড়ে ২৭ শতাংশ করপোরেট কর ধাপে ধাপে কমিয়ে আগামী তিন বছরের মধ্যে ভিয়েতনামের মতো ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেন। তিনি আরও বলেন, আমদানি-রপ্তানি ও অবকাঠামোগত জটিলতার কারণে ব্যবসার ব্যয় বাড়ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা অনুসরণ এবং আমদানিকৃত কাঁচামাল ও পণ্যের দ্রুত খালাস নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিমানবন্দর ও বন্দরে দীর্ঘ সময় পণ্য আটকে থাকায় ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়ছেন। সম্প্রতি ঢাকা বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ড ও বৃষ্টির পানিতে কয়েক কোটি টাকার কাঁচামাল নষ্ট হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিমানবন্দরে আধুনিক গুদাম সুবিধা বৃদ্ধি এবং কাঁচামাল সংরক্ষণের সক্ষমতা উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত খালাসের নিশ্চয়তা দিতে হবে। নাসিম মঞ্জুরের মতে, কর কাঠামো সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে না পারলে দেশের বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রপ্তানি খাত আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।