| ছবি: সংগ্রহীত
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে আটকে দু’দফায় দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার একমাস পেরিয়ে গেলেও জড়িত চার আসামীর মধ্যে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বাদীর পরিবারকে হুমকি ও সমঝোতার প্রস্তাবের অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী পরিবারটি। উল্টো আসামী ও তাদের স্বজনদের ভয়ে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে দক্ষিণ জেলা জিয়া স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব গাজী নাসির উদ্দিনের ছোটভাই আবু তাহের (৪২) মুদির দোকানে বিভিন্নস্থান থেকে নারী, মদ, ইয়াবাসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও সাহস করে না। সে দোকানে গণধর্ষণের ঘটনারপর প্রক্যাশে অপরাধীরা দোকানে বসে ঘটনার বিবরণ দিয়ে আলোচনা এবং হাসাহাসি করছিল। এসময় এলাকার মানুষ ও ভুক্তভোগী কিশোরীর স্বজনরা বিষয়টি জানতে পেয়ে প্রতিবাদ জানালে জড়িতরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেন। এঘটনায় মামলা হওয়ারপর আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবীতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। ঘটনার ১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও কোন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা সূত্র জানায়, গত (২৭ এপ্রিল) সোমবার রাত আনুমানিক দশটার দিকে ভূক্তভোগী কিশোরী পাশ্ববর্তী খালার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার পথে রায়পুর ইউনিয়নের পূর্ব গহিরা এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হন। ঘটনাটি জানাজানি হলেও কিশোরীর মা বাদী হয়ে জড়িত দোকানের মালিক আবু তাহের (৪২) তার সহকর্মী স্থানীয় রবিউল হোসেন (২৪), মো. ফারুক (২৩) ও আনোয়ার হোসেন (২২) বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় ধর্ষণের মামলা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আবু তাহেরের এই দোকানে ২০১৬ সাল থেকেই এসব ঘটনা ঘটে আসছে। আবু তাহেরের বড়ভাই গাজী নাসির উদ্দিনের প্রভাব বিস্তারে তাদের অপকর্ম আরও বেড়ে যায়। রাতে অপরিচিত নারী নিয়ে আসে এ দোকানে। তাদের ভয়ে এলাকার কোনো নারী-কিশোরী ওই দোকান নামে পরিচিত অন্ধমহলের পাশ দিয়ে যেতে চান না। স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা এনামুল হক বলেন, সমাজে এসব ব্যভিচারের সঠিক শাস্তি না হলে অপরাধ আরও বেড়ে যাবে। বিচার না হওয়ায় সারাদেশে একেরপর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। রায়পুর ইউনিয়েনর ইউপি সদস্য মো. তৌহিদুল আলম বলেন, ঘটনাটি নিয়ে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এলাকায়। অপরাধী যত শক্তিশালী হোক, গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবী।’ ভুক্তভোগী কিশোরীর মা অভিযোগ করে বলেন, মামলা করার পর থেকে আসামী ও তার স্বজনরা হুমকি দিচ্ছে মামলা তুলে নিতে। আসামী আবু তাহেরের ভাই বিএনপি নেতা। তারা আমার বাড়িতে লোকজন পাঠিয়ে সমঝোতার প্রস্তাব ও হুমকি দিয়ে গেছে। আমি আমার মেয়ের জীবন ধ্বংসকারীদের ফাঁসি চাই। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘মামলার পর আসামীদের গ্রেপ্তারের পুলিশ কাজ করছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান, মোবাইল ট্যাকিংসহ নানাভাবে চেষ্টা করছে। এসব ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’