প্রকাশ :: ... | ... | ...

নিষ্কাশন ব্যবস্থা না রেখে সড়ক নির্মাণ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: ইমরান হোসাইন

দীর্ঘদিন সড়ক সংস্কার না করা ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেনের অভাবে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারার হযরত শাহ্ মোহছেন আউলিয়া সড়কের লক্ষাধিক বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনের কস্ট দূর করতে সড়ক নির্মিত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়। তবে সড়কে যানচলাচলের আগেই কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়কটি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে সড়ক নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি এলাকায়। ড্রেনের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতে পানিতে টইটুম্বুর করছে নির্মিত সড়কের সংযুক্ত সড়কটি। এমনই দৃশ্য সোমবার সকালে উপজেলার বন্দর কমিউনিটি সেন্টার ও মহালখান বাজার দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যস্ত এই বাজারের মধ্যদিয়ে গেছে শাহ্ মোহছেন আউলিয়া সড়ক। এই সড়কের কোনো পাশে নালা নেই। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মহালখান বাজার থেকে বন্দর কমিউনিটি সেন্টার পর্যন্ত সড়ক ও জনপদ বিভাগের ৯৯ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত হয়েছে পাকা আরসিসি করণ সড়ক। সড়কের কাজ শেষ হলেও যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না রেখে সড়ক নির্মাণ করায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে নির্মিত সড়কের সংযুক্ত অবশিষ্ট ৩০ থেকে ৪০ ফুটের সড়কে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্কুল, কলেজ, কেইপিজেডের শ্রমিক, বাজারের ব্যবসায়ী, ভোক্তাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সড়ক নির্মাণের আগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলার হযরত শাহ্ মোহছেন আউলিয়া সড়ক নির্মাণে ২ কোটি ও বন্দর কমিউনিটি সেন্টার মহালখান বাজার সড়কে নির্মাণে ব্যায় ধরা হয়েছে ৯৯ লাখ টাকা। কিছুদিন আগে সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। তবে এখনও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। শীঘ্রই সড়কটিতে ভারী যান বাহনসহ সবধরনের যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, গত দুইদিন আগে মহালখান বাজার থেকে সেন্টার মেঘনা ব্যাংক পর্যন্ত ১৬০ মিটার অংশ দুই ফুট উঁচু করে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ। এতে সামনের সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত আরও ৩০ থেকে ৪০ ফুট নির্মিত না করায় পানি জমে থাকায় বিঘ্রিত হচ্ছে চলাচল। কেইপিজেডের পোশাক শ্রমিক শওকত হোসাইন আকাশ বলেন, অফিসের কাজে প্রতিদিনই পায়ে হেঁটে ময়লা পানিতে যেতে হয়। ঝড় কিংবা রোদ সড়ক ডুবে থাকে পানিতে। মানুষের কস্ট দূর করতে সড়ক নির্মাণ হলেও পানিই এখন কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও সড়কের দুইপাশে ব্যবসায়ীরা রেখেছেন দখলে। পায়ে হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর আমাদের। স্থানীয় ব্যবসায়ী এমএ মান্নান বলেন, 'পানি নিস্কাশনের জন্য কোনো ব্যবস্থা না রাখায় এবং অল্প সড়কটির কাজ না করায় এ দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।সড়ক নির্মাণের আগে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না রেখে সড়ক নির্মাণ করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতে সড়কটি পানিতে ডুবে থাকে। প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও ব্যবসায়ীসহ কেইপিজেডের হাজারও শ্রমিকরা এ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।' সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, 'সড়ক নির্মাণের সময় পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করার কথা ছিলো। স্থানীয়দের বাঁধার মুখে পড়ে সেটি আর হয়নি। আমরা পানি চলাচলের জন্য নিয়ে যাওয়া সামগ্রী গুলোও ফিরিয়ে আনতে হয়েছে বাঁধার মুখে পড়ে।' তিনি বলেন, তবে এটি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে, এ দুর্ভোগ দূর করতে আগামীতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।