| ছবি: সংগ্রহীত
সারিতে ১০০টি বাড়ি। প্রতিবেশীরা একে অন্যের ঘরের পাশের খোলা জায়গা দিয়ে চলাচল করেন। সামনের দিকে থাকা দুইটি বাড়ির মালিক সড়কে কাঁটা দিয়ে নিজেদের জায়গা করে ফেলেছেন সড়কটি। এতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হওয়ায় ১০০টি পরিবার এক রকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। শনিবার সকালে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের সরেঙ্গা গ্রামের রাজা তালুকদার বাড়ির প্রধান সড়কে। প্রতিবেশী ছৈয়দুল হক ও আজম খায়েরের পরিবার সড়কে কাঁটা দিয়ে চলাচলে বন্ধ করে দেওয়ায় দূর্ভোগে পড়েছে ওই বাড়ির ১০০ পরিবারের মানুষ। সামাজিক রীতি ভেঙে প্রতিবেশীদের চলার পথ আটকে দেওয়ার ঘটনায় একাধিকবার স্থানীয় সামাজিক বৈঠক ও ইউনিয়ন পরিষদের সামাধানও মানতে নারাজ অভিযুক্তরা। সরেজমিনে শতাধিক নারী-পুরুষ জমায়েত হয়। তাদের একমাত্র চলাচলের সড়কটিতে কাঁটা দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। এসময় নারী, বৃদ্ধ ও শিশুরা কাঁটার উপর দিয়ে অনেক কষ্টে চলাচল করছে। এতে করে দীর্ঘ একবছর ধরে চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলকার নারী-বৃদ্ধ থেকে শিশু ও শিক্ষার্থীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা ছিনতাই, মাদক, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকায় সমাজের মান্যগণ্য ব্যক্তিরা তাদের এসবের প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদ করায় গত এক বছর ধরে সড়কের মূল ফটক আটকে বন্ধ রেখে সড়কে দিয়েছে কাঁটা। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মোজাহের (৬৫) বলেন, জন্মের পর থেকে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছি। গতবছর সমাজের এক সালিশি বৈঠকে ছৈয়দুল হক ও আজম খায়েরর ছেলেদের অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করলে তারা তাদের ঘরের পাশের চলাচলের রাস্তায় কাঁটা দিয়ে বন্ধ করে দেয়। অপর বৃদ্ধা লায়লা বেগম (৭০) বলেন, বাড়ির লোকজন তাদেরকে অনেক অনুরোধ করেও সড়কের কাঁটা তোলা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা এডভোকেট আবদুর রহিম বলেন, বাড়ির বয়োবৃদ্ধ থেকে শিশু পর্যন্ত চলাচলে কস্ট পাচ্ছে গত এক বছর ধরে। কোন মানুষ মারা গেলে লাশ বের করতে পর্যন্ত হিমসিম খেতে হয়। সমাজের কোনো ছেলে-মেয়ের বিয়েশাদীতে পর্যন্ত এটার প্রভাব ফেলছে। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটা নিয়ে একাধিকবার সামাজিক বৈঠক করেছি আমরা। তারপরও সমাধান হয়নি। ছৈয়দুল হকের পরিবার সড়কের জায়গা নিজেদের দাবী করে আসছে। মানছেন না কোনো বৈঠকের সমাধানও।