| ছবি: ইমরান হোসাইন
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি। গত মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি পরবর্তী সময়ে আবারও উত্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একনেকে ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে এদিন একনেক সভায় আনোয়ারায় ‘চীনা অর্থনৈতিক জোন স্থাপন’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য টেবিলে উঠলেও দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত তা অনুমোদন পায়নি। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেল হওয়ার পর দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর বড় প্রত্যাশা ছিল ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’। টানেল থেকে সম্প্রসারিত সড়ক সরাসরি যুক্ত হবে কক্সবাজার সড়কে। দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী পর্যন্ত হবে অর্থনৈতিক অঞ্চল। আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদনে কক্সবাজার, পেকুয়া, চকরিয়া, মাতামুহুরীর পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, কর্ণফুলী ও বাঁশখালী উপজেলার মানুষের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার দূরত্ব কমবে ৩৫ কিলোমিটার। পাশাপাশি ঢাকা থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার কমে আসবে। এতে কর্ণফুলী টানেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চাপ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। বাঁচবে জ্বালানী খরচও। সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, কর্ণফুলী টানেলের ব্যবহার বাড়াতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের সাথে সংযোগ সড়ক হিসেবে দুইটি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তৎমধ্যে আনোয়ারা-দোহাজারি-কক্সবাজার বাইপাস সংযোগ সড়ক ও আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক। আনোয়ারা-দোহাজারি বাইপাস সংযোগ সড়কটি আনোয়ারা কালাবিবির দিঘির মোড় থেকে লাবিবা কমিউনিটি সেন্টার হয়ে বরকল বরমা ও চন্দনাইশ দোহাজারির সঙ্গে কক্সবাজার মহাসড়কের যুক্ত হবে। বর্তমানে এই বাইপাস সড়কের কাজও শুরু হয়েছে। প্রায় ৫৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ দশমিক ৩ মিটারের প্রস্থ সড়ক নির্মাণের প্রাথমিক ভাবে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা। এ সড়কের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের দূরত্ব কমবে আসবে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। পাশাপাশি ঢাকা-কক্সবাজারের দূরত্ব কমবে ৫০ কিলোমিটার। প্রকল্প অনুমোদনের খবরে দক্ষিণ চট্টগ্রামে বইছে আনন্দের বন্যা। স্থানীয়ার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ চকরিয়া থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে ধন্যবাদ জানান। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) চট্টগ্রাম দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী পিনটু চাকমা জানায়, আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া (ঈদমনি) আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জরিপ কাজ, প্রকল্পের পিডি নিয়োগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়ার শুরু করা হবে শীঘ্রই। জানা গেছে, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি পরবর্তী সময়ে আবারও উত্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এছাড়া অপেক্ষায় থাকা খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক (তৃতীয় সংশোধন) প্রকল্পটিও ফেরত দেওয়া হয়েছে। এই দুটি বাদ দিয়ে একনেকে কার্যতালিকায় থাকা ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প গুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্প গুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫টি নতুন প্রকল্প, ৩টি সংশোধিত প্রকল্প এবং দুটি মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়া প্রকল্প। সভায় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ মন্ত্রীসভার সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসের শেষ নাগাদ চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যকারও বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণ প্রকল্পটি পরবর্তী সময়ে আবারও অনুমোদনের জন্য একনেকে তোলা হবে। এ নিয়ে কোনো ধরনের জটিলতা নেই। ব্যাংক কর্মকর্তা এসএম মঈন উদ্দিন আজাদ বলেন, ‘টানেল নির্মাণের পর অর্থনৈতিক উন্নয়নের ছোঁয়া সে ভাবে আশা জাগাতে পারেনি। ঘুরপথে পুরনো রাস্তায় কক্সবাজার যেতে হতো। আনোয়ারা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক হাব গড়ে তোলার যে সম্ভাবনা তা এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তব রূপ পাবে বলে আশা করি। চট্টগ্রাম কক্সবাজার ৪০ কিলোমিটার দূরত্ব কমার পাশাপাশি ১ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় এবং বাঁচবে জ্বালানি খরচও।’