প্রকাশ :: ... | ... | ...

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আনোয়ারা প্রশাসনের অভিযান


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। গত কয়েকদিন ধরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিনের নির্দেশনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা নেতৃত্বে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার বারখাইনের ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ সেতু এলাকা ও বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ইছাখালী, চাঁনখালসহ শঙ্খ নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। এসময় শঙ্খ নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানে তাঁর সঙ্গে আনোয়ারা থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. জুয়েল মিয়াসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার শঙ্খ নদী ও খাল থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে পরিবেশ, কৃষিজমি ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এসব অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইউএনও ও এসিল্যান্ড মাঠে নেমে অভিযান জোরদার করেন। একের পর এক অভিযানে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এক প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা তোয়াক্কা না করে শঙ্খ নদীর বিভিন্ন অংশ থেকে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে তীব্র নদীভাঙনের কবলে পড়েছে এ এলাকার মানুষ। এছাড়াও আনোয়ারা উপজেলার বরুমছড়া, জুঁইদন্ডী, রায়পুর ও হাইলধর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়ও প্রকাশ্যে দিনের আলোতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। বালু উত্তোলনের কারনে এসব এলাকায়ও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা বলেন, 'আনোয়ারায় সরকারিভাবে কোনো বালু মহল নেই। নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করে অবৈধভাবে বালু তুলে যারা নদীর প্রাকৃতিক গতিপথ বিনষ্ট করছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।' আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, 'অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনজীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়ে। কোনো প্রভাবশালী চক্রকে ছাড় দেওয়া হবে না। নদী ও জনসাধারণের সুরক্ষায় এ ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।'