| ছবি: দৈনিক দেশের কথা
দেয়াঙ পাহাড় থেকে নেমে আসা হাতির পালের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী—দুই উপজেলার গ্রামবাসী। গত ৮ বছর ধরে বন্য হাতির তাণ্ডবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। দিনের বেলায় পাহাড়ে অবস্থান করলে সন্ধ্যারপরই নেমে আসে লোকালয়ে। শুক্রবার বিকেলে দুটি বন্য হাতি কেইপিজেডে অবাধ বিচরণে একদিকে যেমন স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে ঘুরতে আসা একশ্রেণীর পর্যটকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন ধরে পাহাড় থেকে নেমে আসা দুই বন্য হাতি কেইপিজেডের বিভিন্ন এলাকা ও দর্শনীয় স্থানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। হাতি দেখার জন্য প্রতিদিনই উৎসুক পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভীড় জমে যায় কেইপিজেডের সড়কে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সুরক্ষার কথা চিন্তা না করে অনেক পর্যটক হাতির খুব কাছে চলে যাচ্ছেন। অনেকেই চিল চিৎকার করে, ঢিল ছুড়ে কিংবা ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে ছবি ও ভিডিও তোলার মাধ্যমে হাতি দুটিকে উত্যক্ত করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মানুষের এরকম উসকানিমূলক আচরণের কারণে বন্য হাতি দুটি ক্রমশ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠছে। এতে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাণহানি বা বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জানতে চাইলে চট্টগ্রামের বাঁশখালী বন বিভাগের বনকর্মী মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, ‘বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা বা কাছে গিয়ে উত্যক্ত করা মারাত্মক অপরাধ ও ঝুঁকিপূর্ণ। হাতি শান্ত থাকলেও বিরক্ত করলে তা হিংস্র রূপ নিতে পারে। পর্যটকদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান এবং কোনোভাবেই হাতিকে উত্যক্ত না করতে অনুরোধ করছি।’ তিনি বলেন, আমাদের ইআরটি সদস্যদেরও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে হাতি ও মানুষের সুরক্ষার জন্য সর্বক্ষনিক নজরদারি জোরদার করার জন্য। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক যুগ আগে থেকে বন্য হাতির দল কেইপিজেডের পাহাড়ে অবস্থান নেয়। সেই সময় কয়েক দিন ঘুরেফিরে চলে গেলেও ২০১৮ সাল থেকে হাতিগুলো কেইপিজেড, দেয়াঙ পাহাড়ে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করে। হাতির পালটি আনোয়ারার বটতলী হাজীগাঁও ও কর্ণফুলীর কেইপিজেডের দেয়াঙ পাহাড়, হ্রদ ও বন ঘেরা জায়গায় বিচরণ করে। তাদের হামলায় ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, যাচ্ছে মানুষের প্রাণ। বিভিন্ন সময়ে গভীর রাতেও টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে নির্মিত সংযোগ সড়কের পশ্চিম বৈরাগ অংশ পার হতে দেখা যায় হাতি গুলোকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ২০১৮ সালের শেষ দিকে ওই হাতির দল স্থায়ীভাবে কেইপিজেড এলাকায় বসবাস শুরু করে। ২০১৯ সালের মাঝামাঝি হাতির আক্রমণে ওই এলাকায় মানুষের প্রথম মৃত্যু হয়। শুরুতে এই দলে দুটি বড় এবং একটি ছোট হাতি ছিল। মাঝে মাঝে আরও একটি বড় আকারের হাতিকে এ দলের সঙ্গে দেখা যায়। স্থানীয়দের কাছে সেটি ‘লেজ কাটা’ হাতি নামে পরিচিত। এই হাতির দলের তাণ্ডবে সব সময় আতঙ্কে থাকে কর্ণফুলীর বড়উঠান ও আনোয়ারার বৈরাগ ইউনিয়নের মানুষ।