প্রকাশ :: ... | ... | ...

হরমুজে উত্তেজনা কমতেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মোড় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগে। সম্ভাব্য সমঝোতা ও সংঘাতের ঝুঁকি কমার ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কমে আসায় বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। শনিবার আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডব্লিউটিআই (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের ঘরে নেমে আসে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ২ শতাংশ কমে ৯৩ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মুরবানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বেঞ্চমার্ক তেলের দামেও উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা থেকে সরে এসে নতুন করে বাজার মূল্যায়ন শুরু করেছেন। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়। এ পথের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে দেখা যায়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় দাম নিম্নমুখী হয়েছে। তেল ছাড়াও প্রাকৃতিক গ্যাস ও হিটিং অয়েলের বাজারেও মূল্যহ্রাসের প্রবণতা দেখা গেছে। যদিও ডিজেলের দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে, যা আঞ্চলিক চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে সামান্য কোনো অস্থিরতাও আবার বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আপাতত সংঘাতের ঝুঁকি কমে আসা এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বস্তির বার্তা মিলছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী কয়েক সপ্তাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও কিছুটা কমতে পারে, যা জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য ইতিবাচক খবর হিসেবে বিবেচিত হবে।