| ছবি: মোঃ শাহ আলম
পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পর্যটকদের ব্যাপক আগমন ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক পর্যটক আলীকদমে ভ্রমণে এসেছেন। বিশেষ করে নারী পর্যটকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়-ঝর্ণা এবং অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক পর্যটনের আকর্ষণে প্রতিদিনই নতুন নতুন পর্যটক আলীকদমে আসছেন। আলীকদম ট্যুর গাইড সমিতির সদস্য নুরুল ইসলাম রাজু জানান, ঈদের পর থেকে সমিতির মাধ্যমে প্রায় ১২টি পর্যটক দল বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের জন্য নিবন্ধন করেছে। এছাড়া নিবন্ধনের বাইরে আরও অন্তত দুই হাজারের বেশি পর্যটক উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। উপজেলার প্রায় সব পর্যটন কেন্দ্রেই পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে মারাইংতং পাহাড় ও ডিম পাহাড়ে একদিনে ঘুরে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল পালংক্ষিয়াং ঝর্ণা, থাংকোইন ঝর্ণা, দামতুয়া ঝর্ণা, রোংরাং-ক্রিসতং এবং আন্ধারমানি-নারস্যাঝিরি এলাকার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। পর্যটকদের আগমনে উপজেলার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতেও বেড়েছে ব্যস্ততা। বেশিরভাগ আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে কক্ষ সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পানবাজার ও আবাসিক এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও বিক্রি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। স্থানীয় দোকানদার জহির উদ্দিন বলেন, “ঈদের ছুটিতে গত বছরের তুলনায় পর্যটক বেশি এসেছে। আমাদের ব্যবসাও ভালো হয়েছে।” ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে আলীকদমে বেড়াতে আসা পর্যটক নাইমুল ইসলাম বলেন, “প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পরিবার নিয়ে আলীকদমে এসেছি। এখানকার পরিবেশ খুবই সুন্দর। পাহাড় ও ঝর্ণাগুলো আমাদের মুগ্ধ করেছে।” এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলীকদম থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং দুর্গম পর্যটন এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ফলে পর্যটকরা নির্বিঘ্নে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় পর্যটন সম্ভাবনার কারণে আলীকদমে পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যটন সুবিধা আরও উন্নত করা হলে ভবিষ্যতে এ অঞ্চলে পর্যটকের আগমন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।