প্রকাশ :: ... | ... | ...

তীব্র তাপদাহ ও লোডশেডিংয়ে ব্যাহত পাঠদান, আলীকদমে গাছতলায় ক্লাস


সংযুক্ত ছবি

তীব্র তাপদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম। প্রচণ্ড গরমে শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ায় খোলা আকাশের নিচে, গাছের ছায়ায় ঘাসের ওপর বসে পাঠদান চালাতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। উপজেলার মংচিং হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন গাছতলায় চলছে পাঠদান। শিক্ষার্থীরা ঘাসের ওপর বসে ক্লাস করছে, আর শিক্ষকরা খোলা পরিবেশেই পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুলতান মাহমুদ মাসুম বলেন, “তীব্র গরমের কারণে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়ে গাছের ছায়ায় ক্লাস নিতে হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমও বেড়ে যায়, তখন শিক্ষার্থীদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে গ্রীষ্মকালীন সময়ে মর্নিং শিফট চালু করলে উপকার হতো।” শুধু একটি বিদ্যালয় নয়, আলীকদম উপজেলার প্রায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে ফ্যান বা অন্যান্য শীতলীকরণ ব্যবস্থা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক শিক্ষার্থী গরমজনিত অসুস্থতায় ভুগছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলীকদমে গত কয়েকদিন ধরে দিনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৫ ঘণ্টারও কম সময় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তাও মূলত গভীর রাতে। দিনের বেলায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। এ বিষয়ে লামা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, লামা-আলীকদম এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২ মেগাওয়াটের মতো। এ কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ সমন্বয় করা হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালীন সময়সূচি পরিবর্তন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।