| ছবি: মোঃ শাহ আলম
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ এবং শিশুদের হাম প্রতিরোধক টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। জানা গেছে, কক্সবাজার রিজিয়নের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর বান্দরবান সেক্টরের অধীনস্থ আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় জনগণের মাঝে চিকিৎসাসেবা, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বিজিবি। মঙ্গলবার (১৮ মে) আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এবং ব্যাটালিয়নের মেডিকেল অফিসার ক্যাপ্টেন রিদওয়ান উদ্দিন আহমেদ, এমবিবিএস-এর তত্ত্বাবধানে লামা উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় এ মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরাও অংশ নেন। ক্যাম্পেইনে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ১৫০ জন স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের হাম প্রতিরোধক টিকাও দেওয়া হয়। বিজিবি সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে সীমান্তবর্তী অন্যান্য দুর্গম এলাকাতেও এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হবে। স্থানীয় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিজিবি ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। আয়োজিত মেডিকেল ক্যাম্পেইন ও টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামছুল আলম, এনডিসি, পিএসসি এবং বিজিবি বান্দরবান সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মুহাম্মদ কুররাত জামীল, বিপিএম। এ সময় ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আল হাসান, আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মাহদী, পদাতিক ও মাদকবিরোধী কমান্ডারসহ বিভিন্ন পদবির বিজিবি সদস্য, হেডম্যান, কার্বারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি, জনকল্যাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।