প্রকাশ :: ... | ... | ...

ঈদগাঁওতে তেলের সংকটে সেচ বন্ধ মাঠেই নষ্ট হচ্ছে কৃষকের সোনালি ফসল


সংযুক্ত ছবি

ঈদগাঁও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তেলের তীব্র সংকটে সেচ পাম্প কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইসলামাবাদ ইউনিয়নের মধ্যম গজালিয়া, পূর্ব গজালিয়া, রাজঘাটসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ কৃষি এলাকায় দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। সময়মতো পানি না পেয়ে কৃষকদের কষ্টে ফলানো সোনালি ফসল চোখের সামনেই খেতে শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ‎ ‎ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধার-দেনা ও ঋণ নিয়ে তারা আবাদ করেছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন তেলের অভাবে সেচ দিতে না পারায় ফসল যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি তীব্র রোদে ফসলি গাছ পুড়ে যাচ্ছে। কৃষক বাবুল, রমজান, মিনজানসহ অনেকেই হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সব পরিশ্রম শেষ হয়ে যাচ্ছে চোখের সামনে। ‎ ‎সাতঘরিয়া পাড়া এলাকার কৃষক মাহবুব আলম আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, তার ক্ষেতের ফসল সম্পূর্ণ শুকিয়ে যাচ্ছে। অসহায় হয়ে তিনি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। ‎ ‎কৃষকদের অভিযোগ, পাম্পে তেল নিতে গেলেও কৃষি অফিসার ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত অনুমতি পত্র দেখাতে হয়। অথচ সেই অনুমতি থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় তেল পাওয়া যায় না, ফলে ভোগান্তি আরও বাড়ছে। ‎ ‎এ প্রসঙ্গে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড গজালিয়ার জনপ্রতিনিধি জুবায়েদ উল্লাহ জুয়েল বলেন, আমি নিজে পাম্পে গিয়ে অনেক কৃষককে তেল নিতে সহায়তা করেছি, তবে সংকট এখনো কাটেনি। ‎ ‎এদিকে এই তেল সংকট শুধু কৃষিক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই; মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে লবণ উৎপাদনও। পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় লবণ চাষিরাও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ‎ ‎স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তেলের সরবরাহ নিশ্চিত না করা হলে চলতি মৌসুমে কৃষি ও লবণ উভয় খাতেই ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।