প্রকাশ :: ... | ... | ...

ঈদগাঁওযতে অবৈধ বালুর গর্ত কেড়ে নিল মেধাবী শিশু তানভিরের প্রাণ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: আজিজুর রহমান রাজু

কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইউনিয়নের পশ্চিম ভোমরিয়াঘোনা এলাকায় অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট গভীর গর্তে ডুবে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী তানভিরের। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে চার বন্ধু একসঙ্গে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে সবার অজান্তে গভীর পানিতে তলিয়ে যায় মোহাম্মদ তানভির( ১১) । পরে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং সকাল ১১টার দিকে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। নিহত তানভির ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ঢালারদোয়া ফুলতলী এলাকার নুরুল হাকিমের ছেলে। সে মমতাজুল উলুম ফরিদিয়া দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও সহপাঠীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম ভোমরিয়াঘোনা এলাকায় অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের কারণে অসংখ্য গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্ত এখন এলাকাবাসীর জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই অবহেলার চরম মূল্য দিতে হলো নিষ্পাপ শিশু তানভিরকে। ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম শিশুটির মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান বলে জানা গেছে। ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম সিফাতুল মাজদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর থানায় আনা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় এবং লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধ, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকলে হয়তো এই মর্মান্তিক মৃত্যু এড়ানো সম্ভব হতো। আর কোনো মায়ের কোল যেন এভাবে খালি না হয়—এটাই এখন এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।