| ছবি: মুসলিম উদ্দিন
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৯ এর অভ্যন্তরে অবৈধভাবে পশুর হাট বসিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত অস্থায়ী পশুর হাটের রসিদ ব্যবহার করে ক্যাম্পের ভেতরে এই অবৈধ বাজার পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে থাকা ৮ এপিবিএনের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে আশকারা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে "থাইংখালী মরা গাছতলা" নামে অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমতি নেন রশিদ আহমদ। তবে সেই অনুমতির আড়ালে রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৯ এর অভ্যন্তরে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল পশুর বাজার। স্থানীয়দের দাবি, এই বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন চিহ্নিত শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত জয়নাল মেম্বার। অভিযোগ রয়েছে, "থাইংখালী মরা গাছতলা" পশুর হাটের রসিদ ব্যবহার করে ক্যাম্পের ভেতরে গরু প্রবেশ ও বেচাকেনা করা হচ্ছে। বাজারে প্রতিটি গরুর জন্য ক্রেতার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা এবং বিক্রেতার কাছ থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হলেও সরকারের রাজস্ব আদায়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে জয়নাল মেম্বার বলেন, "আমি রশিদ আহমদকে ২/৩ দিনের জন্য ১০ হাজার টাকা দিয়ে জায়গাটি ভাড়া দিয়েছি। আমি বাজার বসাইনি। বাজার বসিয়েছে রশিদ আহমদ।" অন্যদিকে রশিদ আহমদ মোবাইল ফোনে বলেন, "ওই দিকে বাজার আমি বসাইনি। তবে কিছু স্থানীয় লোকজনের গরু রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভিতরে প্রবেশ করানোর জন্য রসিদ দিয়েছি। বিস্তারিত জানতে জয়নাল মেম্বারের সাথে কথা বলেন। বাজার বসানোর ব্যাপারটা জয়নাল ভাল জানবেন" তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরে প্রকাশ্যেই পশুর হাট পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে "থাইংখালী মরা গাছতলা অস্থায়ী পশুর হাট" নামে রসিদ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জয়নাল মেম্বার ও রশিদ আহমদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছে। স্থানীয়রা আরও জানান, জয়নাল মেম্বারের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা ও ডজনখানেক অভিযোগ রয়েছে। এরপরও প্রশাসনের নীরবতায় তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ তাদের। ৮ এপিবিএন অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, আমি ছুটিতে আছি। এ বিষয়ে ধারণা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি।" সচেতন মহল বলছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় অনুমোদনহীন পশুর হাট পরিচালনা নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য হুমকি হতে পারে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।