| ছবি: সংগ্রহীত
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজনীতি ও সমাজসেবার ইতিহাসে যার নাম গভীর শ্রদ্ধায় উচ্চারিত হয়, তৃণমূল রাজনীতির সেই বিশ্বস্ত কাণ্ডারি, বৃহত্তর হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি ও তিনবারের নির্বাচিত ইউপি সদস্য মরহুম হাজী আব্দুল আজিজ মেম্বারের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। গত ২০২০ সালের (১৫ আগস্ট) এই দিনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রিয় এই জননেতা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে যিনি নিঃস্বার্থভাবে অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন, সেই আপসহীন অভিভাবককে আজ অশ্রুসজল শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ। দুঃসময়ের কাণ্ডারি ও জনসেবার ৩০ বছর রাজনীতিতে মরহুম আব্দুল আজিজ মেম্বার ছিলেন অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও নীতিবান এক ব্যক্তিত্ব। বিগত স্বৈরাচারী শাসনের কঠিন ও প্রতিকূল সময়েও তিনি সাহসিকতার সঙ্গে হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপিকে একসূত্রে গেঁথে রেখেছিলেন। দলীয় নেতাকর্মীদের দুঃসময়ে আগলে রাখা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান উখিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে আজও এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শুধু দলীয় পরিচয়েই নয়, জনপ্রতিনিধি হিসেবে টানা তিন মেয়াদে তিনি প্রমাণ করেছেন জনগণের প্রতি তাঁর আকুল দায়বদ্ধতা। এলাকার উন্নয়ন, গরিব-দুস্থদের সাহায্য এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আব্দুল আজিজ মেম্বারের বাড়ির দরজা ছিল দিন-রাত সব মানুষের জন্য উন্মুক্ত যেকোনো প্রয়োজনে মানুষ তাঁর কাছে গিয়ে কখনো খালি হাতে ফেরেনি। মরহুমের পুত্র তরুণ সংবাকর্মী সোহেল সিকদার রানা বলেন,"আমার বাবা সারাজীবন নিজেকে মানুষের সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। বাবার রেখে যাওয়া সেই মানবিক মূল্যবোধ ও আদর্শকে ধারণ করেই আমরা সমাজের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চাই।" মরহুমের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী কোরআন খতম, বিশেষ মিলাদ ও রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এলাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা আজও অপূরণীয়। পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলার দরবারে এলাকাবাসী, রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের একটাই আকুল প্রার্থনা তিনি যেন এই পরোপকারী জনসেবককে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মর্যাদা দান করেন।