প্রকাশ :: ... | ... | ...

কক্সবাজার হত্যা ও অজ্ঞাত লাশে আতঙ্কিত সাধারণ মানুষ ★গত এক সপ্তাহে ৪ হত্যা ★গত মাসে ৩ জনকে হত্যা


সংযুক্ত ছবি

কক্সবাজারে আইনশৃংখলার চরম অবনতি হয়েছে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ। গত কয়েকদিনে জেলায় বেশ কয়েকটি হত্যা ও অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার হওয়ায় জেলাবাসি আতঙ্কে দিন যাপন করছে। তবে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলছেন, যেসব হত্যাকান্ড হয়েছে তা অনেকটা পারিবারিক ও রোহিঙ্গা কেন্দ্রীক। কারণ হিসাবে তিনি বলেন, রামুতে যাকে হত্যা করা হয়েছে সে মদ্যপ অবস্থায় ছিল । আর অন্যান্য যেসব লাশ উদ্ধার করা হয়েছে সেখানে কারো ফিঙ্গারপ্রিন্ট পাওয়া যায়নি। তিনি ধারণা করছেন এসব কাজ রোহিঙ্গারা করতে পারে। কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া গ্রামে ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে ঘটেছে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। সোমবার (১৩) ভোর পাঁচটার দিকে প্রকাশ্যে কালু বড়ুয়া (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে জবাই করে হত্যা করা হয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে বিহারের জন্য ফুল তুলতে বাড়ির বাইরে বের হন কালু বড়ুয়া। এ সময় অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া (প্রকাশ টাবু) হাতে ধারালো দা নিয়ে এলাকায় বাড়িঘর ও দোকানের সামনে ভাঙচুর চালাতে থাকে। হঠাৎ এমন তাণ্ডব দেখে কালু বড়ুয়া এগিয়ে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন টাম্বু বড়ুয়া এবং তাকে হত্যা করে। এদিকে গত মাসে কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কক্সবাজারের সাবেক সমন্বয়ক। কক্সবাজার শহরের সমুদ্রসৈকত–সংলগ্ন ঝাউবাগানের ভেতরের কবিতা চত্বর এলাকায় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। নিহত খোরশেদ কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুলুলঘোনা এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নিহত হওয়ার ঘটনার পর তারিন নামে এক তরুণীকে হেফাজতে নিয়েছিল পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।তিনি ছুরিকাঘাতের ঘটনার সময় তিনি খোরশেদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা যায়। তারিনও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক। এই ঘটনায় তারেক নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়। এদিকে গত মাসের ৭ মার্চ কক্সবাজার শহরের দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী এলাকায় জিশান নামক এক ব্যক্তির চাঁদা না দেওয়ায় গণেশ পাল (৩৫) নামের এক মুদি ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এবং মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধীদের গুলিতে কমিউনিটি লিডার (মাঝি) মোহাম্মদ নূর নিহত হন। দিকে গত এক সপ্তাহে ৭ এপ্রিল থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় অন্তত ৫টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এর মধ্যে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ১ জন নারী এবং ২ জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে একদিনে ৫ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। গত ১১ এপ্রিল কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ জানারঘোনা এলাকায় একটি ভাড়া বাসার পাশ থেকে হাত ও মাথাবিহীন এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের অবশিষ্টাংশ বিকৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং নিহতের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। গত ৯ এপ্রিল টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়া এলাকায় একটি ফসলি জমি থেকে আনুমানিক ২৫-৩০ বছর বয়সী এক যুবকের ৩ খণ্ড করা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত ৭ এপ্রিল টেকনাফ ও কক্সবাজারের পৃথক স্থান থেকে ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একজনকে পূর্বশত্রুতার জেরে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। খোরশেদ হত্যা মামলার আসামী তারেক ছাড়া আর কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উদঘাটন এবং অজ্ঞাতদের পরিচয় শনাক্তের জন্য তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে । তবে এখনো কোনো ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামিদের গ্রেফতারের খবর পাওয়া যায়নি। কক্সবাজার পুলিশ সুপারজনাব এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান জানান,কক্সবাজাওে আইনশৃংখলার অবনতি হয়েছে বরা যাবেনা। কারণ হিসাবে যদি বলি রামুতে যে হত্যাকান্ড ঘটেছে তা মদ্যপ অবস্থায় এবং পারিবারিক কলহ। অন্যদিকে যেসব অপ্সাত লাশ পাওয়া গেছে ওখানে কারো হাতের ছাপ পাওয়া যায়নি। পুলিশ মনে করছে এটি রোহিঙ্গাদেও ধারা হত্যা সংগঠিত হয়েছে। অন্যদিকে এই সপ্তাহে কক্সবাজার জেলায় ২শত এর অধিক ছিনতায়কারি আটক হয়েছে এবং ওয়ারেন্ডভুক্ত আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে ৮৭জন। পুলিশ আইনশৃংখলা রক্ষায় বদ্ধ পরিকর। বিগত দিন থেকে পুলিশের এক্টিবিটিস নিয়ে একটা প্রশ্ন ছিল তা সামলে উঠার চেষ্টা করছি এবং আমরা তা করতে পেরেছি। বর্তমানে যা হচ্ছে হয়ত পারিবারিক দন্ধ অথবা রোহিঙ্গা কেন্দ্রীক হত্যা মনে হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন থেমে নেই এব্যাপাওে কাজ করে যাচ্ছে।