প্রকাশ :: ... | ... | ...

উন্নয়ন হয়নি ৫০ বছর মরংঘোনা-শুকুরমারা খালপাড় সড়ক


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: নাজিম উদ্দিন

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা-শুকুরমারা খালপাড় সড়কটি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক ধরে উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই কাঁচা সড়কটি জাকরিয়া সড়কের পাশের উকিল আহমদের বাড়ি থেকে শুরু হয়ে গাইন ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত। পরে এটি জঙ্গলকাটা হয়ে এবিসি সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণপাড়া, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদারপাড়া, হেতালিয়াপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের ভরসা এই সড়ক। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ চার দলীয় জোট সরকারের আমলে মাত্র ৬ চেইন অংশে ইট বসানো হয়েছিল। এরপর আর কোনো উন্নয়ন হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সড়কটি আরও বেহাল হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে ফসলি জমির সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে থাকে। কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় পথচারীদের। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে হলে দোলনা কিংবা মানুষের কাঁধই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। এই সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয়, মেহেরনামা আলমাছিয়া দাখিল মাদরাসা, মেহেরনামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বহদ্দারকাটা উচ্চ বিদ্যালয়, পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ এবং বিএমআই ইনস্টিটিউট কলেজের শত শত শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। এছাড়া মরংঘোনা নুরানী তালিমুল কোরআন মাদরাসার অন্তত ২৫০ শিক্ষার্থীও এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। বর্ষাকালে কাদার কারণে শিক্ষার্থীদের পোশাক-পরিচ্ছদ, বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় স্কুল-কলেজে নিয়মিত উপস্থিত থাকাও সম্ভব হয় না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা মুহাম্মদ ফরিদ বলেন, এই সড়কটি আমাদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাসই শুনছি। বর্ষা এলে আমরা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানাই। টমটমচালক রুহুল আমিন বলেন, কাদায় ভরপুর সড়কটি। এখন আর গাড়ি চলেনা। এতে আমাদের আয়-রোজগারও কমে যায়। বহদ্দারকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র সিয়াম বলে, বৃষ্টির সময় স্কুলে যেতে খুব কষ্ট হয়। কাদার কারণে পড়ে গিয়ে অনেক সময় বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র কাইয়ুম বলে, ভালো একটি রাস্তার অভাবে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত রাস্তা সংস্কার চাই। মেহেরনামা আলমাছিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া জান্নাত শিফা বলেন, কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অনেক সময় পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে মেয়েদের জন্য এটি খুবই ভোগান্তির। ব্যবসায়ী নবী হোসেন বলেন, পণ্য আনা-নেওয়ায় অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। একটি ভালো রাস্তা হলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যও সম্প্রসারিত হবে। স্থানীয় শতবর্ষী লেদু মিয়া বলেন, আমার জীবনে অনেক সরকার দেখেছি। কিন্তু এই সড়কের ভাগ্যের পরিবর্তন দেখিনি। এখনো মানুষ কাদা মাড়িয়ে চলাচল করছে। মরংঘোনা তালিমুল কোরআন নুরানী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক জালাল আহমদ বলেন, প্রতিদিন দুই শতাধিক শিশু এই সড়ক দিয়ে মাদরাসায় আসে। বর্ষাকালে তাদের নিরাপদে চলাচল করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। শিশুদের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। কোনাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুহাম্মদ হাসান বলেন, সড়কের কারণে আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। আমার এ বয়সে রাস্তার উন্নয়নের ছোঁয়া দেখিনি। যুগের পর যুগ যায়, চেয়ারম্যান আসে, চেয়ারম্যান যায় কিন্তু সড়কের কোন পরিবর্তন হয়নি। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, জনদুর্ভোগের বিষয়। জনগণের দীর্ঘদিনের এই দাবির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক হওয়া উচিত। স্থানীয় ইউপি সদস্য ইফতেখার বকুল বলেন, সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেশি। ৪-৫ হাজার মানুষের যাতায়াত মাধ্যম এই সড়কটি। তবে রাস্তাটির সরকারি কোড ছিলনা। কোড নম্বরের জন্য আবেদন করছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিভিন্ন সময়ে জনপ্রতিনিধিরা সড়ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। তাদের দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে মরংঘোনা-শুকুরমারা খালপাড় সড়কটি দ্রুত পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।