আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর দেশ গড়ার লক্ষে বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি শিশুদের সার্বিক অধিকার বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া সমস্যাগুলো শিশু অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অন্তরায়। এসব সামাজিক সমস্যা দূর করতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। গত রবিবার কক্সবাজার শহরের ইউনি রিসোর্ট হোটেলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা "ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ"-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। "বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া মুক্ত কক্সবাজার জেলা গঠনে গণমাধ্যমকর্মীদের করণীয়" শীর্ষক এই কর্মশালায় কক্সবাজারে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ অংশ নেন। অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল জেলার সামগ্রিক শিশু অধিকার পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা এবং বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম রোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি করা। গণমাধ্যমের লেখনীর মাধ্যমে অভিভাবকরা যেন তাদের কন্যাশিশুদের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত হন এবং সমাজ থেকে এসব ব্যাধি দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারেন, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া কোঅর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক। তিনি বলেন, সংস্থাটি ২০১৯ সাল থেকে কক্সবাজারে শিশু অধিকার সুরক্ষায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, ইয়ুথ এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের 'চাইল্ড সেইফটি নেট প্রজেক্ট'র ম্যানেজার সাগর ডি' কস্তা। তিনি বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করার পাশাপাশি তা রোধে গৃহীত নানা কার্যক্রম বর্ণনা করেন। এছাড়া নারী ও শিশু বিষয়ক সংবাদ পরিবেশনায় নৈতিকতা এবং সংবেদনশীলতার নানা দিক নিয়ে সেশন পরিচালনা করেন সংস্থার ন্যাশনাল অফিসের ইন্টারনাল ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ম্যানেজার দেবাশীষ রঞ্জন সরকার। সংবাদমাধ্যমের সক্ষমতা ও পেশাদারিত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মহসিন উল হাকিম। তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার নতুন কৌশল ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন এবং মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে আয়োজিত দলীয় আলোচনা সেশনে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা শিশু অধিকার রক্ষা ও প্রচারণায় তাদের নানা মতামত ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। পুরো আয়োজনটির চমৎকার সমন্বয় ও মডারেশন করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উপজেলা কোঅর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়া এবং কমিউনিকেশনস স্পেশালিস্ট বিপ্লবী রানী দে রায়। উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ কক্সবাজারে বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রমের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে সুদমুক্ত ঋণ ও আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ঝরে পড়া রোধে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করছে। এছাড়া মেয়েশিশুদের আত্মরক্ষা ও মানসিক বল বাড়াতে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ, জীবন দক্ষতা বিষয়ক সেশন এবং ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক সচেতনতামূলক কাজ অব্যাহত রেখেছে সংস্থাটি।