প্রকাশ :: ... | ... | ...

মাতামুহুরীতে ক্ষুরের আঘাতে জামায়াত নেতাসহ আহত ৩


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: নাজিম উদ্দিন

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি পুকুরের দখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হামলার ঘটনায় জামায়াতের এক নেতাসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ সংঘবদ্ধ হয়ে ক্ষুর দিয়ে কুপিয়ে ও মারধর করে তাদের রক্তাক্ত করেছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল ৪টার দিকে পশ্চিম কোনাখালী শহর আলী স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন,কোনাখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনঘোনা এলাকার মোস্তাক আহমদের ছেলে আব্দুল হামিদ (৪৩), তাঁর ছোট ভাই শিফাত (১৭) এবং চাচাতো ভাই মৃত ইসহাক আহমদের ছেলে শেখ সালাহ উদ্দিন (৪৩)। আব্দুল হামিদ কোনাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও পল্লী চিকিৎসক। আহত শেখ সালাহ উদ্দিনকে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং আব্দুল হামিদ ও শিফাতকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যে কোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মালিকানাধীন একটি পুকুরের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল হামিদ পক্ষের সঙ্গে একই এলাকার আমির হোসেনের ছেলে নুরুল আলম (নুরু) এর বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নুরুল আলম প্রায় ১৭ বছর ধরে পুকুরটি দখলে রেখে মাছ চাষ করে আসছিলেন। কয়েক মাস আগে শেখ সালাহ উদ্দিনসহ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পুকুরটি অবমুক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। আহত শেখ সালাহ উদ্দিনের দাবি, ইউএনওর ডাকা বৈঠকে নুরুল আলম বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে ইউএনও তাকে পুকুরটি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর নুরুল আলম মাছ লুট ও ১৮ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ দাবি করে চকরিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেন, যেখানে আব্দুল হামিদসহ তাঁকেও অভিযুক্ত করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই অভিযোগের তদন্তে শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় নুরুল আলম পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে আব্দুল হামিদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি দেন। পরে পুলিশ চলে গেলে বিকেলে শহর আলী স্টেশন এলাকায় নুরুল আলমের নেতৃত্বে জাকের হোসেন, শফিউল আলম, মনি আলমসহ কয়েকজন সংঘবদ্ধ হয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ক্ষুর দিয়ে কুপিয়ে এবং মারধর করে তিনজনকে আহত করা হয়। আহত জামায়াত নেতা আব্দুল হামিদ অভিযোগ করে বলেন, নুরুল আলম নুরু ও তার ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারা এলাকার অনেক মানুষের ক্ষতি করেছে। পূর্বের বিরোধের জেরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আমাদের তিনজনকে ক্ষুর দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী মিজান মেস্ত্রী ও হেফাজ সওদাগর জানান, পুকুর দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার বিকেলে নুরুল আলমের নেতৃত্বে কয়েকজন এসে হঠাৎ হামলা চালালে তিনজন আহত হন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে আহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত নুরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।