প্রকাশ :: ... | ... | ...

কর্ণফুলীতে ডেঙ্গুর থাবা, প্রশাসন-চসিকের যৌথ মশক নিধন অভিযান


সংযুক্ত ছবি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় টানা বর্ষণ ও সাম্প্রতিক বন্যার পর জমে থাকা পানিতে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের খোয়াজনগর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমপাড়া এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই এলাকায় আরও বহু মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) যৌথভাবে জরুরি প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি হাতে নেয়। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আজিমপাড়া- খোয়াজনগর এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা, স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং রোগী শনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এ সময় প্রায় ২০ জনের মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ শনাক্ত হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এলাকাটিকে ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ (ডেঙ্গু জোন) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে বিকেলে উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি)-এর সদস্যদের অংশগ্রহণে আজিমপাড়া-খোয়াজনগর এলাকায় ব্যাপক মশক নিধন অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে লার্ভানাশক ওষুধ ছিটানো, এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস এবং বাসাবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করা হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেবুন্নেছা কেয়া, সিপিপি উপজেলা টিম লিডার এম. মঈনউদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা জামিল, খোয়াজনগর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাহের আহমদ,সাংবাদিক মনসুর আলম মুরাদ, উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর টিটু দাশসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মী, সিপিপির স্বেচ্ছাসেবক, ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেবুন্নেছা কেয়া বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ অভিযান চলমান থাকবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুরো উপজেলাজুড়ে মাইকিং করা হবে। জ্বর, শরীরব্যথা বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করুন।” তিনি আরও বলেন,ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, এ লড়াইয়ে প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বাসাবাড়ি, ছাদ, আঙিনা ও আশপাশের কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র, কৌটা কিংবা অন্য যেকোনো পানিধারণকারী বস্তু নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণের আহ্বান জানাই। সবার সম্মিলিত সচেতনতা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।