প্রকাশ :: ... | ... | ...

দামে কম, মানে ভালো পাহাড়ের লিচু


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সাকিব মামুন

মধুমাসে পাহাড়ে শুরু হয়েছে মৌসুমি ফলের প্রাণবন্ত উৎসব, আর সেই উৎসব শুরু হয়েছে হয়েছে সুস্বাদু ও রসালো টসটসে লিচু ঘিরে। গুণে মানে ও স্বাদে অভিন্ন হওয়ায় এই লিচুর চাহিদা এখম দেশজুড়ে। রসালো মিষ্টান্ন এই পাহাড়ি লিচু যেন এক অমৃতফল। পাহাড়ি এ জনপদ জুড়ে বাগানে বাগানে লাল-টুকটুকে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা লিচুতে ভরে উঠেছে গাছের ঢাল। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লিচু সংগ্রহ, বাছাই ও বাজারজাতকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিক ও শ্রমিকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও পরিচর্যার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হওয়ায় চাষিদের মুখে ফুটেছে স্বস্তি ও সন্তুষ্টির হাসি। খাগড়াছড়িতে চায়না-২, চায়না-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচুর চাষ বেশি হয়ে থাকে। জেলার সবকটি উপজেলার বাড়ির আঙিনা ও পাহাড়ি ঢালুগুলোতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য লিচু বাগান। জেলার প্রায় প্রতিটি লিচু বাগানেই এবার দেখা মিলেছে বাম্পার ফলনের। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম থাকা এবং নিয়মিত পরিচর্যার কারণে গাছে গাছে ঝুলছে পাকা লিচু। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ফলন পাওয়ায় চাষিদের মুখে ফুটেছে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি। বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি আটি বেধে (শত) লিচু দেড়শ থেকে ৪‘শ টাকা। এদিকে লিচুর উৎপাদন আরও বাড়াতে এবং গুণগত মান নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি উদ্যোক্তা ও চাষিদের বাগান নিয়মিত পরিদর্শন করছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। তারা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছেন বলে জানিয়েছে। বাগান থেকে সংগ্রহ করা তাজা লিচু পাওয়া যাচ্ছে পাহাড়ের হাট বাজারে। শহরের শাপলা চত্বর, মসজিদ সড়কসহ বিভিন্ন ফলের আড়ত ও দোকানে চলছে লিচুর জমজমাট বেচাকেনা। বিষমুক্ত ও পোকাহীন লিচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে সন্ধ্যা গড়ালে পাইকারদের হাত ধরে বিপুল পরিমাণ লিচু যাচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকা, ফেনী, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। মৌসুমি এই ফলকে ঘিরে কৃষক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাহাড়ের লিচুর প্রতি শহরের মানুষের চাহিদা বেশি থাকার কথাও বলছেন ব্যবসায়ীরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের নিবিড় পরিচর্যার কারণে এ বছর ফলনও গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। পাহাড়ি এলাকার উর্বর মাটি, উপযোগী জলবায়ু এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ লিচু চাষের জন্য বিশেষভাবে অনুকূল হওয়ায় প্রতি বছরই নতুন নতুন বাগান গড়েল উঠছে। চায়না-২, চায়না-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচুর চাষ করে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলছেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মুক্তা চাকমা। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে খাগড়াছড়িকে দেশের অন্যতম লিচু উৎপাদন অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব হবে। এতে পাহাড়ের কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।