| ছবি: সাকিব মামুন
খাগড়াছড়িতে বিদেশি জাতের আম চাষে ঝুঁকছে কৃষকরা। পাহাড়ের অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বরমাটির কারণে বিদেশী আম চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক মংশিতু মারমা। ইতোমধ্যে পাহাড়ের আম বিদেশে রপ্তানি সারা মিলেছে কৃষক মংশিতুর। দেশের বাজারে দেশীয় আমের তুলনায় দ্বিগুণেরও অধিক দামে বিক্রি হচ্ছে বিদেশি জাতের আমগুলো। পাহাড়ের বুকে মংশিতুর বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিদেশি লাল রঙের রেড ম্যাংগো, আমেরিকান পামলার, চিয়াংমাই, ব্যানানা ম্যাংগো, কিউজাই, রেড লেডি, আপেল ম্যাংগো, নাম ডক মাই, কেসিংটন প্রাইড, ব্ল্যাক স্টোন সহ প্রায় ৫৪ প্রজাতির আম। আম বাগানি তরুণ উদ্যোক্তা মংশিতু মারমা বলেন, খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় প্রায় ৩০ একরের বেশি জায়গাজুড়ে গড়ে তুলেছেন একটি বৃহৎ আম বাগান। শুরুতে মংশিতু বিদেশি আমের প্রতি তার একটা আর্কষণ ছিলো। প্রথমে ২০১২ সাল থেকে ব্যানানা ম্যাংগো দিয়ে বাগান শুরু করেন। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট একটি বেতন সরকারি চাকুরী ছেড়ে দিয়ে ২০২২ সালে পুরোদমে আম বাগানে ঝুকে পরেন। বাজারে নিরাপদ আম পৌঁছে দেওয়ায় আমি এবার সরকারের পক্ষ থেকে জিএপি সার্টিফিকেট পেয়েছি। বর্তমানে আমার আম দেশের বাইরে রপ্তানি করা হচ্ছে বিভিন্ন বাইয়ার এর মাধ্যমে। পাহাড়ে উৎপাদিত বিদেশী জাতের এই আম দেশের বাজারে দেশীয় আমের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। শ্রমিক ক্যজ্বরি মারমা বলেন, মংশিতু'র বাগানে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে আসচ্ছেন। গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কার করে জৈব সার প্রয়োগ করা হয়। এই বাগানে আমার মতো আরো ৮জন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করেন। বিশেষ করে গাছের গোড়ায় পাহাড়ের লতাপাতা দিয়ে মালচিং পদ্ধতি অনুসরণ করে গাছে গোড়ায় আদ্রতা ধরে রাখতে ব্যবহার করা হয়। এতে আম গাছগুলো প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠে এবং বিষমুক্ত ভালো ফলও হয়। এভাবে আমরা নিয়মিত বাগানে আম গাছের পরিচর্চা করে থাকি। খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়িতে প্রায় ৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে দেশি-বিদেশী আমের আবাদ হয়েছে। যার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬২ হাজর ১শ ৭৯ মেট্রিকটন। এবারে জেলার অনুকূল আবহাওয়া ও পাহাড়ের উর্বরমাটির কারণে আমের ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এইসাথে খাগড়াছড়িতে অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর পাহাড়ের মাটি চাষে উপযোগী হওয়ায় নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিদেশি জাতের আম চাষের সম্প্রসারণের মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।