প্রকাশ :: ... | ... | ...

৭০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচে লাখ টাকা বিল


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সাকিব মামুন

খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক কৃষক পরিবারের আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগে এক মাসে ব্যবহৃত ৭০ ইউনিটের বিপরীতে ৭ হাজার ইউনিট দেখিয়ে ১ লাখ টাকার বেশি বিল পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর সরেজমিনে রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাহবুব নগর গ্রামে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী কৃষক হারুনুর রশীদের বাড়িটি টিনশেড, যেখানে তিনটি কক্ষ রয়েছে। বাড়িতে রয়েছে তিনটি এলইডি বাতি, দুটি ফ্যান এবং একটি পানি তোলার মোটর। হারুন ও তার স্ত্রী সেখানে বসবাস করেন। প্রয়োজন ছাড়া খুব বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন না বলে দাবি তার। হারুনুর রশীদ জানান, মিটার সংযোগটি তার বোনের নামে হলেও তিনি নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে তার বিল ছিল যথাক্রমে ৮৮ ও ৯২ টাকা। তিনি বলেন, মার্চ মাসের বিল নিয়ে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) জালিয়াপাড়া বাজারে মোবাইল ফাইন্যান্স সার্ভিসের দোকানে বিল পরিশোধ করতে গেলে প্রথম বিষয়টি নজরে আসে। বিলের কাগজে ১ লাখ ৪ হাজার ১ শত ১১ টাকা দেখে হারুনুর রশীদ বিস্মিত হন। পরে দোকানদার তাকে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং বিলের কাগজের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে রামগড় বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন হারুনের বাড়িতে গিয়ে বিলের কাগজ নিয়ে আসেন এবং তা সংশোধনের আশ্বাস দেন বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রামগড় বিদ্যুৎ অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী কাওসার আহমেদ প্রথমে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পরে বলেন, মিটার রিডিং নোটে ৭০ ইউনিটের জায়গায় ভুলবশত ৭ হাজার ইউনিট লেখা হয়েছিল। সেই ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বিল প্রিন্ট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নতুন করে বিল সংশোধন করে দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্কতা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মিটার না দেখে রিডিং নেওয়া, অতিরিক্ত ইউনিট দেখিয়ে বিল করার ঘটনা দীর্ঘদিনের। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তারা। যদিও এ বিষয়ে জেলা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ‘অফিসিয়াল মৌখিক নির্দেশে’ এমন ঘটনা ঘটে। তার দাবি, সিস্টেম লস সমন্বয় এবং বিল আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গিয়ে কখনও কখনও এ ধরনের অসঙ্গতি দেখা দেয়।