প্রকাশ :: ... | ... | ...

জমি বিক্রিতে লাখ টাকা চাঁদা দাবি খবর প্রকাশে সাংবাদিকের ওপর হামলা


সংযুক্ত ছবি

জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় এক স্থানীয় সাংবাদিকের ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির পানছড়ি বাজারে অভিযুক্ত চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারি এবং তার বাহিনীর দেশীয় অস্ত্রের হামলায় স্থানীয় সাংবাদিক মো. চান মিয়া গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় প্রাণনাশের আশঙ্কায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক পানছড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আহত সাংবাদিক জাতীয় দৈনিক জনবাণী ও আঞ্চলিক পত্রিকা দেশের কথা'য় কাজ করেন। স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্র জানায়, পানছড়ির মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত সুলতান মিয়ার দুই ছেলে কাশেম ও সালামের কাছ থেকে শিউলি আক্তার নামে এক নারী চার শতক জায়গা ক্রয় করেন। সম্প্রতি শিউলি আক্তার জায়গাটি বিক্রি করার উদ্যোগ নেন এবং পাশের বাসিন্দা মুন্না নামক এক ব্যক্তিকে তা ক্রয়ের প্রস্তাব দেন। মুন্না ক্রয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে শিউলি আক্তার অন্য ক্রেতা খুঁজতে থাকেন। ​অভিযোগ উঠে, ক্রেতা খোঁজার একপর্যায়ে মুন্না স্পষ্ট জানিয়ে দেয়- জায়গা যার কাছেই বিক্রি করা হোক না কেন, তাকে ১ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। নিরুপায় হয়ে শিউলি আক্তার বিষয়টি পানছড়িতে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সাংবাদিক মো. চান মিয়াকে জানান। ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করলে চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মুন্না। অন্যায়ভাবে চাঁদা দাবির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অভিযুক্ত মুন্না গত কাল থেকে ওই সাংবাদিককে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই জেরে সকালে ভুক্তভোগী সাংবাদিক চান মিয়া ব্যক্তিগত কাজে পানছড়ি বাজারে গেলে মুন্না তার বাহিনী নিয়ে তাকে অনুসরণ করে। একপর্যায়ে বাজারে সবার সামনেই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মুন্না এলাকার চিহ্নিত মাদক সেবনকারি ও মাদক কারবারি। ২০১৭ সালে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে সে জেল খাটেন। পরে জামিনে বের হয়ে সে পুনরায় মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তোলে। হামলার পর আহত সাংবাদিক নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষায় পানছড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রকাশ্যে সাংবাদিকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। এবিষয়ে পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের পুলিশ কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ​অনতিবিলম্বে অভিযুক্ত মাদক ও চাঁদা কারবারি মুন্নাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।