প্রকাশ :: ... | ... | ...

সড়ক তো নয় যেন চাষের জমি কাদায় সড়কের বেহাল দশা, যাতায়তে শতাধিক পরিবারের চরম দুর্ভোগ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: এম. মনছুর আলম

কক্সবাজারের অভিভক্ত চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার ডেমুশিয়া ইউনিয়নের গ্রামীণ অভ্যান্তরীণ খাসপাড়া সড়কটি যাতায়ত অনুপযোগী ও বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি সময়ে কয়েকদিন গুটি গুটি বৃষ্টির কারণে মাটির রাস্তার এ সড়কটি চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে তিন গ্রামের প্রায় ৬ হাজার জনগোষ্টি যাতায়াতে চরম ভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা যেই কেউ এক পলকে দেখলে বলে উঠে ‘সড়ক তো নয়, যেন চাষের জমি’। সড়কটি অবিলম্বে চলাচল উপযোগী ও সংস্কারের জন্য চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ড এবং তার আশপাশের দুটি গ্রামের শত শত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বাজারগামী নিত্যদিন সহস্রাধিক মানুষ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে আসছে। সম্প্রতি বর্ষণের কারণে সড়কটি কাদামাটিতে একাকার হয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এর ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে তিন গ্রামের প্রায় ৬ হাজার জনগোষ্ঠী। দাসখালী পাড়া সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার অভাবে সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত কাদা মাটির রাস্তা থাকায় এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকার মানুষ। অযোগ্য হয়ে পড়েছে সব ধরণের যান চলাচল। সড়ক দিয়ে কাঁদা মাড়িয়ে কোন রোগী নিয়ে যাতায়ত করতে চরম দুর্ভোগের যেন অন্ত নেই। বেহাল এই সড়কে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। একান্ত বাধ্য না হলে তারা এই সড়ক এড়িয়ে চলছেন। এই সড়ক দিয়ে ডেমুশিয়া ও ইলিশিয়া বাজার, উপজেলা সদরসহ সহজেই বিভিন্ন স্থানে যেতে পারেন। কিন্তু সড়কটি কাঁচা থাকায় এলাকাবাসীকে বিকল্প ১কি:মি পথ ঘুরে বাজারে ও উপজেলা সদরে যেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছর পূর্বে সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম রোস্তম আলী জনগণের যাতায়তের সুবিধার্থে রাস্তাটি মাটি দিয়ে ভরাট করে প্রশস্ত করেছিল। সেই থেকে অদ্যবদি পর্যন্ত কোন জনপ্রতিনিধি মানুষের দুর্ভোগ লাগবের কথা চিন্তা করে কোন ধরণের সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে সড়কের বেহালদশা পরিণত। শুকনো মৌসুমে ধুলোর জ্বালা, বর্ষায় কাঁদা। বর্তমানে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পডুয়া শিক্ষার্থীদের সড়ক দিয়ে যাতায়ত করা চরম ভাবে পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার ডেমুশিয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডটি একেবারে যোগাযোগের জন্য অনুপযোগী এবং উন্নয়ন বঞ্চিত। যাতায়তের একমাত্র সড়কটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের খাম খেয়ালিপনায় চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন তারা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ডেমুশিয়া ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডস্থ দাসখালী পাড়া সড়ক দিয়ে নিত্যদিন খাসপাড়া, মাঝেরডিয়া পাড়া এলাকার গ্রামের মানুষ যাতায়ত করে আসছে। ইউনিয়নের এই ওয়ার্ডের বেশির ভাগ মানুষ ওই সড়ক দিয়ে অধিকতর কম সময়ে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে পারেন। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে সড়কটি চাষের জমিতে পরিণত হয়ে গেছে। রাস্তা দিয়ে কোন যেতে পারছে না কোন ধরণে রিক্সা, মটর সাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন। দীর্ঘ সময় ধরে সড়ক লাগোয়া মৎস্য প্রকল্পের জন্য মাছের খাদ্য সরবরাহে ভারি যানবাহন চলাচলে সড়কটি আরো বেহালদশা রূপ নিয়েছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের। সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়ত করা স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন, এই সড়কটি দিয়ে তার প্রতিদিন কর্মস্থল যেতে হয়। বর্তমানে সড়কটির এমনই দশা হয়েছে, জুতা পায়ে দিয়ে চলাচল তো দূরের কথা, খালি পায়ে যাওয়াও কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছে। সড়কটির দিকে সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরণের নজরই নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের যেতে চরম ভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি করছি যেন সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হোক। মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া সস্পাদক ও সাবেক স্থানীয় মেম্বার গিয়াস উদ্দিন বলেন, যাতায়তের জন্য সড়কটি জরুরি সংস্কার হয়ে পড়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম আসলেই গ্রামের মানুষের হাটা-চলাও বড় দুস্কর। সম্প্রতি কয়েকদফা বৃষ্টির কারণে রাস্তার এ করুণদশা পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর নেইনি কোন ধরণের সংস্কারের উদ্যোগ। এ রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল এক প্রকার বন্ধ বললেই চলে। মূলত পরিকল্পিত ভাবে ইউনিয়নের উন্নয়ন না হওয়া ও বিগত সরকারের প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণে গ্রামীণ এই সড়কটি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। তিনি আরও জানান, দাসখালী পাড়ার গ্রামীণ এ সড়কটি যাতায়াতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সড়কটি সার্ভে করে উন্নয়নের জন্য নতুন করে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। রাস্তাটি দ্রুত কার্যকর গ্রহণের বিষয়ে ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়কে লিখিত আবেদন মাধ্যমে জানানো হয়। হয়তো আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বরাদ্দে রাস্তাটি নতুন করে নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বরত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, রাস্তাটির উন্নয়ন ব্যাপারে স্থানীয় বেশ কয়েকজন লোক অবহিত করেছেন। যতদ্রুত সম্ভব রাস্তাটি চলতি অর্থ বছরের বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে সংস্কারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।