প্রকাশ :: ... | ... | ...

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এন্টিভেনমে রক্ষা পেল সাপে কাটা রোগীর প্রাণ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ফরহাদ (৩৫) নামে এক ব্যক্তি বিষাক্ত কোবরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে সাপটিসহ চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে আসেন। তিনি একজন সাপুড়ে। সে নিয়মিত গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাপ ধরেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার পর জরুরি বিভাগে ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। সাপে কাটা রোগী ফরহাদের পরিস্থিতি বুঝতে পেরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীনে নেতৃত্বে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে শক্তিশালী একটা টিম দ্রুত তাঁর চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন। এক মুহূর্তও দেরি না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি দ্রুত Antivenom (এন্টিভেনম-বিষ নিষ্ক্রিয় করণের ঔষধ) প্রয়োগ করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক চিকিৎসাসেবায় সাপে কাটা রোগীর অবস্থার দ্রুত উন্নতি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, সবচেয়ে আশ্বর্য জনক বিষয় হলো-সাপে কাটা রোগী ফরহাদ সুস্থ হওয়ার পরে বার বার বলতে রাগলো, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় “আর মামু হড়ে”? অর্থাৎ (আমার মামু কোথায়)। এখানে মামু মানে তার সাপ কে বুঝাইছে। গভীর রাতেও মানুষের জীবন রক্ষায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। গতরাতে সাপে কাটা রোগীকে সুস্থ করে তোলা এই সাফল্য শুধুমাত্র সমন্বিত চিকিৎসাসেবায় আন্তরিক প্রচেষ্টা। সাপে কাটা রোগীকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভালো ও সুস্থ করে তোলায় কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক সাধুবাদ জানান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন বলেন- সাপে কাটলে দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসতে হবে। কারণ রোগীকে দ্রুত Antivenom (এন্টিভেনম) প্রয়োগ করা খুবই জরুরি। না হলে তাঁর জীবন বিপন্ন হওয়ার খুবই সম্ভবনা। তিনি আরও জানান, সাপে কাটলে কোন রোগীকে ওঝা, কবিরাজ বা ঝাড়ফুঁকের পেছনে সময় নষ্ট করবেন না। নিজে ঝুঁকি নিয়ে সাপ ধরতে যাবেন না। সাপ নিয়ে খেলবেন না বা ছবি/ভিডিও করতে গিয়ে ঝুঁকি নেবেন না। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ও নিরাপদে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে আসুন। গতরাতের ঘটনাটি সবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বিষাক্ত সাপ নিয়ে খেলা কিংবা অসতর্কভাবে সাপ ধরতে যাওয়া জীবনহানির কারণ হতে পারে। সাপে কাটার পর প্রতিটি মিনিট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণই জীবন বাঁচানো অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সচেতন হোন, অন্যকেও সচেতন করুন।