| ছবি: এম. মনছুর আলম
সম্প্রতি সময়ে টানা অবিরাম ভারিবর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার জনপদ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে লোকালয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়ে লক্ষ লক্ষ বানবাসি মানুষ। বন্যা পরবর্তী বানবাসি মানুষের মাঝে বিশেষ করে শিশু থেকে বয়স্কদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে ও পানি বাহিত রোগ প্রতিরোধ করতে নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় ১ হাজার ৫১০ জন রোগীকে ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বেতুয়ারকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেন। চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জায়নুল আবেদীন বলেন, বন্যা দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ দিন ধরে পানিতে নিমজ্জিত ছিল মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচরের ছৈনাম্মার ঘোনা। এলাকাটি নিম্নাঞ্চল হওয়ায় ৯০% বাড়িঘর পানির নিচে ডুবে গেছে। ফলে বিশুদ্ধ পানি ও তীব্র খাদ্য সংকট ছিলেন ওই এলাকার বানবাসি পরিবারের সদস্যরা। বন্যা পরবর্তী এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহযোগিতা ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। তিনি আরও জানান, বন্যা পরবর্তী বানের পানি ভাটির দিকে নেমে যাওয়ার সাথে সাথে দুর্গত এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মীর টিম পানি বাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে বন্যাদুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ চলমান রেখেছে। আজকেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সহযোগিতায় ফ্রি চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে শিশু, মহিলা ও বয়স্ক পুরুষসহ ১ হাজার ৫১০ জন রোগীকে সেবা প্রদান করেন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসগণ। হাসপাতালের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিম দিনব্যাপী রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করেন। পাশাপাশি বন্যা-পরবর্তী পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিস্থিতি মোকাবেলায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো নৈতিক দায়িত্ব। বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার পাশাপাশি এবং তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ফ্রি চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে আশাবাদী। উল্লেখ্য, কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় মানুষ খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যা পরবর্তী বেশিরভাগ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর বন্যার্তের পাশে দাঁড়িয়ে ফ্রি চিকিৎসা সেবা ও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।