প্রকাশ :: ... | ... | ...

এয়ারপোর্টে না গিয়ে সুইমিংপুলে জেট ফুয়েল


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: আলী আশরাফ

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজের ট্যাংকে যে জ্বালানি ঢুকানোর কথা ছিল, তা গিয়ে জমা হচ্ছিল মাটির নিচে বানানো কৃত্রিম এক ‘সুইমিংপুলে’! বিমানবন্দরগামী ট্যাংকলরি মাঝপথ থেকে গায়েব করে উধাও করে দেওয়া হচ্ছিল সরকারের স্পর্শকাতর জ্বালানি ‘জেট ফুয়েল’। তবে চোরাকারবারিদের এই দুঃসাহসিক ও অভিনব কৌশলের শেষ রক্ষা হলো না।​চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় এক আওয়ামী লীগ নেতার গোপন আস্তানায় মাঝরাতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই বিপুল পরিমাণ জেট ফুয়েল, ডিজেল ও অকটেন জব্দ করেছে কোস্টগার্ড। একই রাতে অন্য এক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে চোরাই সয়াবিন তেলও। ​কোস্টগার্ড সূত্র জানায়, ঘটনাটি ঘটেছে পতেঙ্গা ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায়, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীরের মালিকানাধীন একটি তেলের ফিল্ড গোডাউনে। পদ্মা অয়েল পিএলসির ডিপো থেকে একটি ট্যাংকলরি জেট ফুয়েল নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে চালক লরিটি নিয়ে ঢুকে পড়ে ওই গোপন আস্তানায়। ​সেখানে গিয়ে কোস্টগার্ড সদস্যরা দেখতে পান এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। ঘরের ভেতর সুইমিংপুলের মতো বিশাল এক চৌবাচ্চা (পাকা হাউজ) তৈরি করে সেখানে সরাসরি নামানো হচ্ছিল উড়োজাহাজের জ্বালানি। আর চারপাশ জুড়ে থরে থরে সাজানো ছিল ডিজেল ও অকটেনের ড্রাম।​জব্দকৃত জ্বালানির খতিয়ান:​জেট ফুয়েল: ৭,০০০ লিটার ​ডিজেল: ৬,০০০ লিটার ​অকটেন: ১,৫০০ লিটার।যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।এইসময় জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।​একই রাতে ​পতেঙ্গার এই অভিযানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১টার দিকে ইপিজেড থানার আকমল আলী জলকপাট (স্লুইসগেট) এলাকায় দ্বিতীয় অভিযানটি চালায় কোস্টগার্ড। সেখানে একটি ঘাটে তল্লাশি চালিয়ে জাহাজ থেকে অবৈধভাবে খালাস করা প্রায় ৫ হাজার লিটার চোরাই সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা। ​তবে দুই অভিযানের কোনোটিতেই চোরাকারবারিদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা। ​বিমানবন্দরের জ্বালানি চুরির এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পরপরই নড়েচড়ে বসেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। ঘটনা তদন্তে পদ্মা অয়েল পিএলসি এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।​একই সাথে কর্তব্যে অবহেলা ও চুরির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন:সোহেল ইদ্রিস (ব্যবস্থাপক, পদ্মা অয়েল)মিল্টন রায় (চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তা) মো. ইদ্রিস (কর্মী) মো. জসিম উদ্দিন (ট্যাংকলরি চালক) ​পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ও চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে কোস্টগার্ডের সিগন্যাল কমিউনিকেশন অফিসার লেফটেন্যান্ট হাসিব-উল-ইসলাম এবং মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে কোনো অসাধু চক্র যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য তাদের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। চোরাচালানিদের রুখতে প্রয়োজনে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যৌথ অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তারা।