প্রকাশ :: ... | ... | ...

"চট্টগ্রামে গ্রাফিতি আঁকতে বাধা দেওয়ায় জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি, সামনে নেই এনসিপির কেউই "


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: আরিফ সিদ্দিকী

চট্টগ্রামে জনসমাবেশ এবং মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণার মধ্যে গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মোছা নিয়ে এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে জনসমাবেশ এবং মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পুলিশ। সোমবার দুপুরে নগরীর টাইগার পাস মোড়ে কিছু শিক্ষার্থী জুলাইয়ের গ্রাফিতি আঁকার জন্য জড়ো হন। পরে পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পুলিশ একপর্যায়ে ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে আটক করে ভ্যানে তোলে। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা সরে যান। এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুপুরে কিছু শিক্ষার্থী নগরীর টাইগারপাস এলাকায় জুলাইয়ের গ্রাফিতি অংকন করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তাদের আঘাতও করে। কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়। তারা জুলাইয়ের গ্রাফিতি অংকন করতে গেছে। মিছিল-সমাবেশ করতে যায়নি, পুলিশ তাদের বাধা দেবে কেন?’ চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর টাইগার পাস এলাকায় মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশের ৩০ ধারা জারি আছে। তা অমান্য করে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে ৫০-৬০ জন জড়ো হয়েছিল। তাদের সরে যেতে বললেও সরেনি। সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশের গায়ে রঙ মারে। যারা রঙ মেরেছিল, তাদের কয়েকজন হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’ সকালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে নগরীর জিইসি মোড় থেকে দেওয়ান হাট পর্যন্ত জনসমাবেশ ও মিছিল-মিটিং ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এর আগে চট্টগ্রামের ওয়াসা থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের পিলারে আঁকা জুলাই গ্রাফিতি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মুছে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির পক্ষ থেকে রবিবার রাতে জুলাই গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি দেওয়া হয়। তারা রবিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিভিন্ন গ্রাফিতি অংকন করেন। এরপর রাতে সিটি করপোরেশন যাওয়ার সড়কে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাতকে দায়ী করে শাহাদাত জুলাইয়ের গাদ্দারসহ বিভিন্ন লেখা লেখেন। এরপর ছাত্রদলসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা এসে তার প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ করেন। এরপর লেখাগুলো মুছে দেন। এই নিয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করে। লক্ষনীয়ভাবে দেখা যায় - পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি ও গ্রেফতারের ঘটনায় গেজেটভুক্ত জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা সাগর, তানিয়াদের সম্মুখ সারিতে দেখা মিললেও এনসিপির কাউকে দেখা মেলেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় জুলাই যোদ্ধাদের ক্ষোভ ঝাড়ছেন বর্তমান এনসিপির আহবায়ক ও সদস্য সচিব তাদের কেউই জুলাই আন্দোলনের কোথাও ছিলনা। এনসিপির এই হাইব্রিডদের সাথে জুলাই যোদ্ধাদের কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা নাই।