প্রকাশ :: ... | ... | ...

চট্টগ্রামে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযানে ৪ খাদ্য প্রতিষ্ঠানকে ৪০ লক্ষ টাকা জরিমানা


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন খাদ্য প্রতিষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। শনিবার অভিযান পরিচালনা করেন মোহাম্মদ মোস্তফা, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ১ম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট, বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত, চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম। এসময়- চট্টগ্রামে ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারিকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা, মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লি.কে ১০ লক্ষ টাকা, উৎসব সুপার শপকে ১০ লক্ষ টাকা এবং রিও ক্যাফে - মাজায়দারকে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে । চট্টগ্রাম মহানগরের বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের অভিযানে ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারির কারখানায় একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে। অভিযোগ গুলোর মধ্যে রয়েছে: • নিম্নমানের ঘি ব্যবহার ও অনুমোদন ছাড়া ঘি উৎপাদন • পঁচা ও বাসি মিষ্টির উচ্ছিষ্ট সংরক্ষণ ও খাদ্য তৈরিতে ব্যবহারের অভিযোগ • মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি, কেক ও বিস্কুট সংরক্ষণ • পণ্যে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং পুষ্টিতথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ না করা • স্যাঁতস্যাঁতে ফ্লোর, ভাঙা টাইলস ও নোংরা ড্রেনেজ ব্যবস্থার মধ্যে খাদ্য উৎপাদন • পোকাযুক্ত বাদাম ও অপরিষ্কার সরঞ্জাম ব্যবহার • ফ্রিজারে মেয়াদহীন খাবার সংরক্ষণ • প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ও মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সনদ না থাকা • পরিদর্শনের সময় বিভিন্ন রুম, ড্রয়ার ও ফ্রিজার তালাবদ্ধ রেখে তদন্তে অসহযোগিতা। এসব অনিয়মের দায়ে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ফ্লেভারস সুইটস অ্যান্ড বেকারিকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। ফ্লেভারস সুইটস এণ্ড বেকারির কারখানায় প্রাপ্ত অসঙ্গতিসমূহঃ ১. নিন্মমানের ঘি ব্যবহার করে বেকারিজাত পণ্য উৎপাদন, মানহীন ঘি উৎপাদন করা ও খাদ্য প্রস্তুতকরণে ব্যবহার করা ২. খাদ্যোপকরণে ভেজাল মিশ্রিতকরণ ও বর্জ্য সংরক্ষণঃ পঁচা-বাসি মিষ্টির উচ্ছিষ্টাংশ ব্যবহারের উদ্দেশ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা ৩. মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি, কেক, বিস্কুট সংরক্ষণ করা ৪. নির্ধারিত পদ্ধতিতে খাদ্য লেভেলিং না করাঃ উৎপাদন-মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পুষ্টিতথ্য (উপাদানসমূহের তথ্য) যথাযথভাবে না থাকা ৫. অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনঃ মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রক্রিয়ায় স্যাঁতস্যাঁতে ফ্লোর, ভাংগা টাইলস, নোংরা ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নোংরা কম্বল দিয়ে দই উৎপাদনে জাক দেওয়া, পোকাযুক্ত বাদাম ব্যবহারপূর্বক খাদ্য উৎপাদন, ময়লাযুক্ত বেলুন, চামস, চাকু দিয়ে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ফ্রিজারে মেয়াদহীন খাবার সংরক্ষণ। ৬. ব্যবসায়িক সনদ, মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সনদ না থাকা, প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ব্যতিত ঘি উৎপাদন, ৭. আদালতকে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহযোগিতা না করাঃ পরিদর্শনকালে বিভিন্ন রুম, ড্রয়ার, ফ্রিজার তালাবদ্ধ করে রাখা এবং খুলতে অসহযোগিতা করাসহ নানাবিধ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। ফ্লেভারস সুইটস এণ্ড বেকারির কারখানার বিরুদ্ধে গৃহিত আইনানুগ ব্যবস্থাঃ নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ৫৮ ধারায় (দন্ড তফসিল) বর্ণিত ২৬, ২৮, ২৯, ৩২(ক), ৩৩, ৩৯, ৪০ ধারা লংঘনের দায়ে ১৯ (ঊনিশ) লক্ষ টাকা জরিমানা; অনাদায়ে ৩ মাস কারাদণ্ড। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রোজ মঙ্গলবার বিজ্ঞ আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সার্বিক মানোন্নয়ন সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লি.-এ প্রাপ্ত অসঙ্গতিসমূহঃ ১. নিম্নমানের খাদ্যপণ্য উৎপাদনঃ বিভিন্ন চিপস, নোডলস, ম্যাংগো বারের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ ও নিশ্চিত না করা। ২. মানহীন খাদ্যদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতকরণ ও সংরক্ষণ ৩. অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ( বিভিন্ন স্থানে তেলাপোকার বিচরণ, ম্যাংগো বার প্রস্তুতের কাঁচামাল- পাল্পের ড্রামের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের উপস্থিতি, বিভিন্ন স্থানে ফ্লোর ভাংগা, তৈলাক্ত ফ্লোর, নির্দিষ্ট বিরতিতে চুলা পরিষ্কার না করা, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর নিমকি ও চিপস উৎপাদন) খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন করা ৪. ⁠বর্জ্য পদার্থ সংরক্ষণ, খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াকরণে পোড়াতেলের ব্যবহারসহ নানাবিধ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয় ৫. মেয়াদবিহীন পটেটো স্টিকস সংরক্ষণ, ব্যবহৃত তেল ও ম্যাংগো পাল্পে যথাযথভাবে মেয়াদ উল্লেখ না থাকা মেরিডিয়ান ফুড প্রোডাক্টস লি.-এর বিরুদ্ধে গৃহিত আইনানুগ ব্যবস্থাঃ ১. নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ৫৮ ধারায় (দন্ড তফসিল) বর্ণিত ২৬, ৩৩ ধারা লংঘনের দায়ে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা জরিমানা; অনাদায়ে ৩ মাস কারাদণ্ড। ২. ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ রোজ রবিবার বিজ্ঞ আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সকল প্রোডাক্টের মান নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। উৎসব সুপার শপ-এ প্রাপ্ত অসঙ্গতিসমূহঃ ১. মানহীন আচার বিক্রয়, নিন্মমানের হোমমেইড প্রোডাক্ট বিক্রয় ২. অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে মাংস সংরক্ষণ ও বিক্রয় ১. মেয়াদোত্তীর্ণ মোমোস সংরক্ষণ ও বিক্রয় ২. খাদ্যপণ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে লেভেলিং না করাঃ খেজুরের মেয়াদ উল্লেখ না থাকা, আমদানিকৃত বিভিন্ন জুস, মধু, পানি, বাদাম, এনার্জি ড্রিংকস, অলিভ ওয়েল, সয়া সস এজাতীয় নানান পণ্যের গায়ে যথাযথ লেভেলিং সংক্রান্ত তথ্য না থাকা, পণ্যের পুষ্টিতথ্য বাংলায় না থাকা, লেভেলিংয়ে দুর্বুদ্ধ ভাষার ব্যবহার, নিজস্ব স্টিকার ব্যবহার করে পুষ্টিতথ্য ঢেকে রাখা। ৩. আমদানিকারকের যথাযথ তথ্য সংযোজন ব্যতিরেকে মিথ্যা ঘোষণায় খাদ্যপণ্য বিক্রয়। ৪. জিলাপিতে ব্যবহৃত রঙ সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ না করা ৫. একই চপিং বোর্ড (কাঠের গড়িয়া) - একই দা-ছুরি ব্যবহারপূর্বক গরু ও খাসির মাংস প্রসেস করা এবং আলাদা চপিং বোর্ড ও দা-ছুরি ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে মালিকপক্ষের ন্যূনতম ধারণা না থাকা ৬. কোল্ড স্টোরেজ সবসময় চালু না রাখা ৭. তথাকথিত আমদানিকৃত ফলমূল অধিক মূল্যে বিক্রয় করলেও আমদানিকারকের তথ্যাদি ও ফলমূলের ক্রয়মূল্য সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখাতে না পারা ৮. নষ্ট হয়ে যাওয়া মরিচ, বিভিন্ন মশলা ও চকোলেট সংরক্ষণ ও বিক্রয় ৯. নিবন্ধনবিহীন অবস্থায় শিশুখাদ্য বিক্রয়, অনুমতিবিহীন ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্ ১০ . পপকর্ণ, ক্যারামেল ভাজায় খোলা তেলের ব্যবহার ১১. প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ব্যতিরেকে আচার, হোমমেইড প্রোডাক্ট সংরক্ষণ ও বিক্রয়সহ নানাবিধ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। উৎসব সুপার শপ-এর বিরুদ্ধে গৃহিত আইনানুগ ব্যবস্থাঃ ১. নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ৫৮ ধারায় (দন্ড তফসিল) বর্ণিত ২৬, ২৯, ৩২(ক), ৩৯ ধারা লংঘনের দায়ে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা জরিমানা; অনাদায়ে ৩ মাস কারাদণ্ড। ২. ৩০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখ রোজ রবিবার বিজ্ঞ আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আমদানিকৃত ফলমূলের ক্রয়মূল্যসহ যাবতীয় তথ্যাদি উপস্থাপন, আচারের পুষ্টিতথ্য সংযোজন ব্যতিরেকে এবং হোম মেইড প্রোডাক্টের যথাযথ অনুমোদন ও পুষ্টিতথ্য ব্যতিরেকে বিক্রয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। রিও ক্যাফে - মাজায়দার -এ প্রাপ্ত অসঙ্গতিসমূহঃ ১. অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রয়, পঁচা-বাসি খাবার সংরক্ষণ, খাদ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে উদাসীনতা ২. মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণ ও বিক্রয়ঃ চকোলেট ডোনাট ও পেস্ট্রি জাতীয় খাবারে মেয়াদ উল্লেখ না থাকা ৩. যথাযথ নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় সনদ ব্যতিরেকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাসহ নানাবিধ অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। রিও ক্যাফে - মাজায়দার -এর বিরুদ্ধে গৃহিত আইনানুগ ব্যবস্থাঃ ১. নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ এর ৫৮ ধারায় (দন্ড তফসিল) বর্ণিত ৩৯ ধারা লংঘনের দায়ে ১ (এক) লক্ষ টাকা জরিমানা; অনাদায়ে ১০ দিন কারাদণ্ড। উক্ত কার্যক্রমে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়, চট্টগ্রামের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম ,সিএমপি, চট্টগ্রাম; ব্যাটালিয়ন আনসার, চট্টগ্রাম এর একটি চৌকস টিম সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সার্বিক সমন্বয় করেন।