| ছবি: ফয়সাল চৌধুরী
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ফতেনগর উত্তর সুনীতি বিহারের অধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার বর্ষীয়ান সাংঘিক ব্যক্তিত্ব বোধিপ্রিয় মহাস্থবিরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শুক্রবার ৮ মে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিহার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটির সূচনা হয়। বাংলাদেশ সংঘরাজ ভিক্ষু মহাসভার উপ-সংঘরাজ ধর্মদর্শী মহাথেরোর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. সংঘপ্রিয় মহাথেরো। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন শীলজ্যোতি মহাথেরো এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞানন্দ মহাথেরো, প্রকৌশলী সীমান্ত বড়ুয়া। আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাসনমিত্র মহাথেরো ও বসুমিত্র মহাথেরো। প্রয়াত মহাস্থবিরের বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর স্মৃতিচারণ করেন অ্যাডভোকেট প্রভুতি রঞ্জন বড়ুয়া, কেমিস্ট দীপক বড়ুয়া, মা ও শিশু হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. অসীম কুমার বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট সাম্যশ্রী বড়ুয়া, প্রকৌশলী সীমান্ত বড়ুয়া এবং শিল্পী তাপস কুমার বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুমন বড়ুয়া চৌধুরী। পঞ্চশীল পাঠ ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সুশান্ত বিকাশ বড়ুয়া, প্রধান শিক্ষক প্রমোদ রঞ্জন বড়ুয়া, সুমন বড়ুয়া বাপ্পি, নীকচন বড়ুয়া, অ্যাডভোকেট পুলক বড়ুয়া, শংকর বড়ুয়া এবং নিবু বড়ুয়া। সকাল থেকেই শত শত ভিক্ষুসংঘ ও পুণ্যার্থী বৌদ্ধ নর-নারী প্রয়াত ভিক্ষুর মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে প্রিয় গুরুকে শেষ বিদায় জানান। উল্লেখ্য যে, বোধিপ্রিয় মহাস্থবির ১৯৩৯ সালে ফতেনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গত ৩০ এপ্রিল ৮৭ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন। মৃত্যুপূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি বৌদ্ধ ভিক্ষু হিসেবে পুরো জীবন ধর্ম প্রচার ও মানুষের কল্যাণে বিলিয়ে দিয়েছিলেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষণে ত্যাগ, সংযম ও করুণার দীপশিখা জ্বালিয়ে তিনি চতুরার্য সত্য ও আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গের সাধনায় নিবেদিত ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাঝে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।