দেশে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, অকটেন, পেট্রল, ডিজেল ও কেরোসিন—সব ধরনের জ্বালানির দামই বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়িক খাতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি লিটার অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪০ টাকা, যা আগে থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। একইভাবে পেট্রলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৫ টাকা। পরিবহন ও কৃষি খাতে বহুল ব্যবহৃত ডিজেলের দাম এখন ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কেরোসিনের দামও বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের অবনমন দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ফলে ভর্তুকি কমিয়ে আনার অংশ হিসেবে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে নতুন এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়বে পরিবহন খাতে। বাস, ট্রাক ও পণ্য পরিবহনের ভাড়া বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপ হিসেবে এসে পড়ে। এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ মনে করছেন, বাড়তি জ্বালানি ব্যয় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ আরও বাড়িয়ে দেবে। অনেকেই বলছেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি খাতে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি তাদের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং বিকল্প জ্বালানির উৎসের দিকে নজর না দিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি আরও ঘন ঘন হতে পারে। একই সঙ্গে তারা স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া ও বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, নতুন এই মূল্য সমন্বয় দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কীভাবে এই চাপ মোকাবিলায় পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।