| ছবি: সংগ্রহীত
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের বর্ধিত কমিটি ঘোষণা করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। ১৭ জন যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৫৫ জন সদস্য পদমর্যাদায় মোট ৭২ জনকে অন্তুর্ভুক্ত করে এই কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি ঘোষণার পরপরই ত্যাগী ও আন্দোলনরত কর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে পটিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। কমিটির বিস্তারিত: বুধবার (১৩ মে) ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বর্ধিত কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে আব্দুল ওয়াহেদ সুমন, আনিসুল ইসলাম, মাহবুবুল আলম কাজলসহ ১৮ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ৫৫ জনকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তৃণমূলের ক্ষোভ ও অবমূল্যায়নের অভিযোগ: কমিটি ঘোষণার পর দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন উপজেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পদবঞ্চিত কর্মীদের অভিযোগ, বিগত ১৭ বছর ধরে যারা রাজপথে হামলা-মামলা ও জেল-জুলুম সহ্য করে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন, তাদের এই কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা অনেক নেতৃত্বকে এই বর্ধিত কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পটিয়া পৌরসভার কোনো নেতাকর্মী এই কমিটিতে স্থান না পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ের ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। বিএনপি নেতার প্রতিক্রিয়া: এদিকে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের এই কমিটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কড়া সমালোচনা করেছেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম। এক পোস্টে তিনি জানান, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে নির্যাতিত কর্মীদের বাদ দিয়ে গঠিত এই বর্ধিত কমিটি সঠিক হয়নি। তিনি বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে ত্যাগীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন। তৃণমূলের সাধারণ কর্মীদের দাবি, দ্রুত এই কমিটি পুনর্গঠন না করা হলে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।