প্রকাশ :: ... | ... | ...

পটিয়ায় ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানলেন ব্যবসায়ী কাশেম স্বজনদের আহাজারি


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

পটিয়া টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন পটিয়ার ব্যবসায়ী আবুল কাশেম (৫৭)। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোর ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। এক টুকরো জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন ভাতিজার হাতে হাতুড়ি ও আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়া এই মানুষটি আর বাড়ি ফিরলেন না—এই খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। ​নিহত আবুল কাশেম পটিয়া পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকার ডাক্তার বাড়ির মরহুম আইয়ুব আলীর জ্যেষ্ঠ সন্তান। সজ্জন ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় তার যথেষ্ট পরিচিতি ছিল। ​পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল সকালে বাহুলী-গোবিন্দার খীল সংযোগ সড়কে প্রতিবেশী ইব্রাহীম প্রকাশ বেহলাসের ছেলেদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাগবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এক পর্যায়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ইকবাল, এস্কানদার সুজন, আবু তাহেরসহ তাদের সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে আবুল কাশেমের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হত্যার উদ্দেশ্যেই তার মাথায় ও শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে প্রথমে পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হাসপাতালের বারান্দায় দীর্ঘ পাঁচ দিন ধরে প্রার্থনায় ছিলেন নিহতের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বাবার সুস্থ হয়ে ফেরার প্রতীক্ষা পরিণত হয়েছে চিরস্থায়ী কান্নায়। নিহতের জামাতা হাবিবুল্লাহ আদনাব অশ্রুভেজা কণ্ঠে বলেন, "আমার শ্বশুরের কোনো দোষ ছিল না। শুধু নিজের জায়গা রক্ষা করতে গিয়েছিলেন। সন্ত্রাসীরা তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলল। আমরা এই খুনের বিচার চাই।" ​ পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানিয়েছেন, হামলার ঘটনায় আগেই একটি মামলা হয়েছিল। এখন ভুক্তভোগীর মৃত্যুর পর সেটি আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ‘হত্যা মামলা’ হিসেবে রেকর্ড করা হবে। তিনি আরও বলেন, "এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলছে। অজ্ঞাতনামা আসামিদের গতিবিধিও আমরা নজরে রাখছি। অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।" ​এদিকে, পটিয়ার সাধারণ মানুষ এই নৃংশস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ এলাকায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।