| ছবি: মোঃ হাচান আল মামুন
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় আকস্মিক ভারী বর্ষণে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, বিভিন্ন এলাকায় বসতঘরেও পানি ঢুকে পড়েছে। একই সঙ্গে পাহাড় ধসের কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের কয়েকটি স্থানে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। দীঘিনালা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। কেন্দ্রটির বেলুন মেকার সুভূধি চাকমা জানান, চলতি মৌসুমে এত অল্প সময়ে এত বেশি বৃষ্টিপাতের তথ্য আগে পাওয়া যায়নি। প্রবল বর্ষণে মাইনী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার মেরুং, কবাখালী ও বোয়ালখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকার বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে আমনের ক্ষেত। দীঘিনালা-কবাখালী ও দীঘিনালা-মেরুং সড়কের বিভিন্ন অংশের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে পাহাড়ি ছড়াগুলোতেও হঠাৎ পানি বেড়ে ফ্ল্যাশ ফ্লাডের সৃষ্টি হয়েছে। বোয়ালখালী ছড়ার পানি বেড়ে জামতলী এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় ধসের কারণে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের কয়েকটি স্থানে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। তবে দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি ও সাজেক সড়কে যান চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানা গেছে। দীঘিনালার চৌমুহনী এলাকার জগন্নাথপাড়ার বাসিন্দা মৃদুল নাথ বলেন, ‘রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। সকালে উঠে দেখি ঘরে পানি ঢুকে গেছে। গত মাসের বন্যায় আমাদের বাড়িতে পানি ওঠেনি। অথচ এবার মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টার বৃষ্টিতে ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা সুজিত দে বলেন, ‘হঠাৎ করেই বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত টানা প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছে।’ বোয়ালখালীর বাসিন্দা গণেশ ত্রিপুরা বলেন, রাতে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল এবং ছড়ায় তেমন পানি ছিল না। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে ছড়ার পানি দ্রুত বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ছড়ার উজানে তৈদুছড়াসহ আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পানি দ্রুত বেড়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি। আকস্মিক এ ভারী বর্ষণে দীঘিনালার বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, ‘গতকাল রাতে দীঘিনালায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এতে উপজেলার বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক ফসলি জমি পানির নিচে রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পর সরকারি সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’