প্রকাশ :: ... | ... | ...

টাকা দিলেই মিটার ঠিক, না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন’—দীঘিনালায় বিদ্যুৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় রিচার্জ মিটার দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া, মিটার লক করে দেওয়ার ভয় দেখানো এবং মিটারের রিডিং কমিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে। উপজেলার করলাছড়ি এলাকার একাধিক গ্রাহক এ অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, রিচার্জ মিটার দেওয়ার ব্যবস্থা এবং মিটারের রিডিং কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে কয়েক দশ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে মিটার লক করে দেওয়া কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। করলাছড়ি এলাকার ভুক্তভোগী মিলন বলেন, কয়েক দিন আগে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তার বাড়িতে গিয়ে মিটারে সমস্যা রয়েছে বলে জানান। এ সময় তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। প্রায় এক মাস পর আবারও বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তার বাড়িতে গিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তাকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ভয় দেখিয়ে অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার কাছ থেকে ৩৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আরেক ভুক্তভোগী হাবিব উদ্দিন অভিযোগ করেন, তিনি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পেতেন। পরে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন তাকে রিচার্জ মিটার ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে ‘সমঝোতার’ কথা বলেন। এ জন্য তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে মিটারের রিডিং কমিয়ে দেওয়ার কথা বলে আরও ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভুক্তভোগীদের দাবি, করলাছড়ি এলাকার আরও কয়েকজন গ্রাহকের কাছ থেকেও একইভাবে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়া হয়েছে। সরকারি সেবা পেতে এ ধরনের অর্থ লেনদেনের অভিযোগে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বক্তব্য নিতে গেলে প্রথমে অনাগ্রহ, পরে কথা বলেন কর্মকর্তা অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিদ্যুৎ অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এরশাদ আলীর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি প্রথমে বক্তব্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রতিবেদকের হাতে ক্যামেরা দেখে তিনি সেখান থেকে উঠে চলে যান। পরে অবশ্য তিনি বক্তব্য দিতে রাজি হন এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। এরশাদ আলী অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তবে তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও গ্রাহকদের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে দীঘিনালা উপজেলা বিদ্যুৎ প্রকৌশলী কর্মকর্তা গীতি বসু চাকমা বলেন, “এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয় আমরা জানতে পেরেছি। অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ভুক্তভোগীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় গ্রাহকদের মতে, বিদ্যুৎ সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি খাতে এ ধরনের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা বক্তব্য দিয়েছেন এবং তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।