| ছবি: দৈনিক দেশের কথা
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম লম্বাছড়া গ্রামে দীর্ঘদিনের সুপেয় পানির সংকট দূর করতে ২৫টি ত্রিপুরা পরিবারের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। এতে প্রায় দেড় শতাধিক মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাছড়া গ্রামে স্থাপিত গভীর নলকূপটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয়দের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এ পানির উৎস থেকে স্থানীয় ত্রিপুরা পরিবারগুলোর পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয় ও ধর্মগুরুরাও উপকৃত হবেন। স্থানীয়রা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সংকট তীব্র আকার ধারণ করত। তখন পাহাড়ি ঝিরি, ছড়া ও কুয়ার পানি সংগ্রহ করেই দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হতো। দূরবর্তী স্থান থেকে পানি আনতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্কদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হতো। স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরিশোধিত পানি ব্যবহারের কারণে চর্মরোগ, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতো। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় সূত্রে বিষয়টি জানতে পেরে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। তাদের উদ্যোগে লম্বাছড়া গ্রামে গভীর নলকূপটি স্থাপন করা হয়। নলকূপটি চালু হওয়ায় দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট থেকে স্বস্তি পেয়েছেন স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ। এক বাসিন্দা বলেন, ‘দীর্ঘদিন দূরের ঝিরি ও কুয়া থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কষ্ট আরও বেড়ে যেত। এখন বাড়ির কাছেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা হওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।’ স্থানীয়রা আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসায় তাঁরা ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন সূত্র জানায়, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়; সমাজের অসচ্ছল, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে দীঘিনালা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। গভীর নলকূপ স্থাপন ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা তৈরিতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়। এ সময় আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক মো. ইব্রাহিম খলিল, নাজমুল হাসান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মেকানিক মো. আব্দুল্লাহ খানসহ স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাহাড়ের দুর্গম জনপদে নিরাপদ পানির সংকট শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা নয়; এর সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্য, সময়, শ্রম ও জীবনযাত্রার মান সরাসরি জড়িত। লম্বাছড়ার ২৫টি ত্রিপুরা পরিবারের জন্য গভীর নলকূপ স্থাপনের ফলে দীর্ঘদিনের সেই সংকটের একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হয়েছে।