বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের মানবিক উদ্যোগে চট্টগ্রামে সফলভাবে চোখের অপারেশন শেষে ৩১ জন পাহাড়ি ও বাঙালি রোগী সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যায় দীঘিনালায় ফিরে আসেন। এ সময় দীঘিনালা জোনে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। জানা যায়, দীঘিনালা জোনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রোগীদের চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়। সফল অপারেশন শেষে দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তারা হাসপাতাল থেকে রওনা হয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে দীঘিনালা জোনে পৌঁছান। জোনে পৌঁছানোর পর স্বজনদের সঙ্গে রোগীদের আবেগঘন মিলনমেলায় আনন্দের মুহূর্তের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ায় রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী লতিফ হোসেন বলেন, “আমি আগে চোখে ঝাপসা দেখতাম। আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় আমার চোখের অপারেশন হয়েছে। এখন আগের তুলনায় অনেক ভালো দেখতে পাই। এই সহযোগিতার জন্য আমি সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। উপকারভোগী হেলেনা চাকমা বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে আমার চোখের অপারেশন হয়েছে। এখন আমি পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছি। নতুন করে আলো দেখার সুযোগ করে দেওয়ায় সেনাবাহিনীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। অস্ত্রোপচার শেষে ফিরে আসা অন্যান্য রোগীরাও জানান, অর্থাভাবে অনেকেই উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেন না। দীঘিনালা জোনের সহায়তায় তারা নতুন করে চোখের আলো ফিরে পেয়েছেন। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ পার্বত্য অঞ্চলের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ বলেও তারা মন্তব্য করেন। স্থানীয়রা জানান, সেনাবাহিনীর এ ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ শুধু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছে না, বরং পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও আস্থার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করছে। দীঘিনালা জোন সূত্র জানায়, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।