নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে ভোজ্যতেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং অনুমোদনবিহীন বিএসটিআই লেবেল ব্যবহার করে বাজারজাত করার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম। অভিযানে একটি গুদাম থেকে ১,০৪২ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়েছে এবং গুদাম মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল অবৈধভাবে মজুদ রাখার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। র্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, চট্টগ্রাম মহানগরীর অক্সিজেন মোড়, নাসিরাবাদ এবং কর্ণফুলী কমপ্লেক্স এলাকায় কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল মজুদ করে রেখেছে। এসব তেল বাজারে সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে গুদামে মজুদ রাখা হচ্ছিল। পাশাপাশি বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন ধরনের লেবেল ব্যবহার করে এসব পণ্য বাজারজাত করারও চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭, চট্টগ্রামের উদ্যোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং রাত আনুমানিক ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন গুলবাগ আবাসিক এলাকার একটি গুদামে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সেখানে অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা ১,০৪২ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। র্যাব জানায়, জব্দকৃত তেল যথাযথ কাগজপত্র ও অনুমোদন ছাড়াই মজুদ করে রাখা হয়েছিল এবং সেগুলো বাজারে সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্য ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর একই অভিযানের ধারাবাহিকতায় ৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকায় আরও একটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সেখানে দুটি প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল মজুদ করে রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান দুটি মোট ২১ হাজার ৬০০ লিটার ভোজ্যতেল অবৈধভাবে মজুদ করে রেখেছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে সর্বমোট ৬০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। র্যাব কর্মকর্তারা জানান, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা এবং অনুমোদনবিহীনভাবে লেবেল ব্যবহার করে পণ্য বাজারজাত করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সাধারণ ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয় এবং বাজার ব্যবস্থায় অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। র্যাব-৭, চট্টগ্রাম আরও জানায়, অভিযানের সময় জব্দ করা ভোজ্যতেল এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আদায়কৃত জরিমানার অর্থ বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে। ভবিষ্যতেও র্যাব-৭, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিএসটিআইয়ের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এছাড়া সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অসাধু মজুদদার ও প্রতারক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে র্যাব।