| ছবি: মাঈনুদ্দিন খালেদ
বিজিবির পাশাপাশি এবার চোরাচালান ও মাদক ঠেকাতে পুলিশ একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছেন বাংলাদেশ-মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় । আর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরেজমিন পরিদর্শনে আসছেন উর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবান পুলিশের একটি সুত্র। সুত্র মতে,নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তটি লোকালয়সহ সারাদেশের মাদক পাচারের আলোচনায় ভাসছে। প্রায় সময় কোথাও না কোথা ৫০ হাজার,এক লাখ বার্মিজ ইয়াবা টেবলেট জব্দ করছেন বিজিবি। কদাচিত পুলিশও জব্দ করছেন। এছাড়া সীমান্ত চোরাকারবারও আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এ পয়েন্টে। সব বিবেচনা করে সরকারের নির্দেশে বান্দরবান পুলিশ একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের লোকালয়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় সুত্র জানান,প্রধানমন্ত্রী মাদক এবং অনলাইন-অফলাইন জুয়া নিয়ে কঠোর অবস্থানে। এ সুত্র ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় সারা দেশে এ দুটো বিষয়ে মাঠে নামতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। তারই ধারাবাহিকথায় দেশের পুর্বসীমান্ত দিয়ে মাদক পাচার বন্ধে একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নেয় পুলিশ । তার মধ্যে পুলিশের থানা,ফাঁড়ি ও তদন্ত কেন্দ্র ছাড়া বাকী বেশ কয়েকটি পয়েন্টে স্থায়ী তল্লাশী পোস্ট বসানো,ডগস্কয়ার সংযুক্তকরণ,এসপি অফিসের সাথে কানেক্টেড সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ও হ্যা স্ক্যানার সংযুক্ত করণ অন্যতম। যার মধ্যে ৬ থেকে ৭ টি পুলিশি তল্লাসি পোস্ট বসানোর পরিকল্পনা নেন মন্ত্রনালয। তবে স্খানীয়দের দাবী অন্তত ৮ টি তল্লাসি চৌকি বসালে মাদক পাচাররোধ ও অপরাধীদের আনাগোনা মনিটরিং করা সম্ভব হবে। কারণ নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তটি ৮০ কিলোমিটার প্রায় স্থল সীমানা রয়েছে। এদিকে পুলিশের এক সুত্র দাবী করেন, এসব তল্লাশী চৌকি বসাতে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক জরিপ শেষ করেছে পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো মুজাম্মেল হক জানান,সামনের ২/১ দিনের মধ্যে যে কোন সময় নাইক্ষ্যংছড়িতে পুলিশের উর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা নাইক্ষ্যংছড়ি আসছেন। বান্দরবান জেলা পুলিশের একটি সুত্র জানান,আগামী ২২ ও ২৩ জুন পুলিশের ডিআইজি মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান ও বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো ওহাবুল ইসলাম খন্দকার নাইক্ষ্যংছড়ি যাবেন বলে কথা রয়েছে। সেখানে তারা কয়েকটি বিষয় নিয়ে সরেজমিন দেখে আসবেন। যা সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নের অংশ। এছাড়া তারা মাদক ও জুয়া বিরোধী একটি সমাবেশে যোগ দেবেন। বান্দরবান পুলিশ সুপার মো: ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন,সরকারের মাদক,জুয়া ও চোরাচালান বিরোধী কার্যক্রম রোধে পুলিশ কাজ করছে সক্রিয়ভাবে । সব কিছু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশেই হবে। তাই কাজ শুরু করার পর সব দৃশ্যমান হবে। তবে লক্ষ্য হবে জনকল্যাণে। তিনি আরো জানান,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় যেভাবে নির্দেশনা দেবেন পুলিশ সেভাবে কাজ করবেন। মাদক,জুয়া ও চোরাচালান ঠেকাতে মাঠে সক্রিয়ভাবে এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠে থাকবেন পুলিশ । যেন কোন অপরাধি পার না পায়।