প্রকাশ :: ... | ... | ...

ঘুমধুম সীমান্তে ১ জনসহ ৮ দিনে প্রাণ হারায় ৪ তঞ্চঙ্গা মর্টারশেল-ল্যান্ডমাইনে


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: মাঈনুদ্দিন খালেদ

তিন তঞ্চঙ্গার মৃত্যুর শোকের রেশ কাটকে না কাটতেই ৮ দিনে মাথায় ঘুমধুম সীমান্তে আরেক জন তঞ্চঙ্গা কিশোর নিহত হল । সে মারা যায় পরিত্যক্ত মর্টালশেল বিষ্ফোরণে। মঙ্গলবার বিকেল ৩ টায় সে মারা যান সীমান্তে তুইঙ্গাঝিরি বিওপি এলাকায়। এর আগে গত ২৪ মে পার্শ্ববর্তী সীমান্তে ৩ তঞ্চঙ্গা মারা যান ল্যান্ডমাইন বিষ্ফোরণে। ৩৪ বিজিবি সুত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি ৩৯ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন জিরো লাইনে পরিত্যক্ত মর্টারের গোলা বিস্ফোরণে বাংলাদেশী এ কিশোর নিহত হয়। তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের এ কিশোরের নাম সতনাইং তঞ্চঙ্গা (১২)বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাড়ি পশ্চিম পাড়া কিংহ্লা তঞ্চার ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর তুইঙ্গাঝিরি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আন্তর্জাতিক জিরো পয়েন্ট পার হয়ে মিয়ানমার অভ্যন্তরে গেলে সে এ একটি পরিত্যক্ত মর্টারশেল বিষ্ফেরণের কবলে পড়েন। সূত্রটি আরো জানায়, ঘটনাটি তুইঙ্গাঝিরি বিওপি থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং সীমান্ত পিলার-৩৯ এর নিকটবর্তী জিরো লাইনের কিছুটা মিয়ানমারের অভ্যন্তরে এলাকায় সংঘটিত হয়। বিস্ফোরণের পর স্থানীয়রা নিহত কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে বাইশফাঁড়ী গ্রামে নিয়ে যান।। এর ৮ দিন আগে গত ২৪ মে পার্ম্ববর্তী ৪১-৪২ নম্বর পিলার মধ্যবর্তী এলাকায় শক্তিশালী ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে ৩ তঞ্চঙ্গা নিহত হন। বড় এই দু'ঘটনার পর এই এলাকায় বর্তমানে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং সীমান্তের জিরো লাইনে কাউকে না যেতে বিজিবির পক্ষ হতে অনুরোধ করা হয়েছে। ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে:কর্ণেল মো:খাইরুল আলম ঘটনার কথা অবহিত হয়েছেন দাবী করে বলেন,সীমান্ত এলাকায় না যেতে বারবার নিষেধের পরও চোরাকারবারী ও স্খানীয় কিছু লোকজন রাতের আধাঁরে বা জঙ্গলাকীর্ণ পথ বেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে যাওয়ার কারণে এ সব দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। তিনি আরো বলেন গত সপ্তাহ ব্যাপী ৩৪ বিজিবি এ ধরণের বিষয় নিয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সভা-সমাবেশ করছেন তারা । তবুও অনেকে সীমান্তের নো-ম্যান্সল্যান্ডে যাওয়ার ফলে প্রাণ হারাচ্ছে অনেকে। যা কাম্য নয়। তবে বিজিবি টহল দ্বিগুন করে এ সব বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।