প্রকাশ :: ... | ... | ...

নাইক্ষ্যংছড়ির কোনারপাড়া সীমান্তে চোরাকারবারী-বিজিবি মুখোমুখি আইনি পথে হাটছে বিজিবি


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: মাঈনুদ্দিন খালেদ

নাইক্ষ্যংছড়ি বুধবার (৬ মে) ২০২৬ খ্রী: বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে তুমব্রু ও ফুলতলী পয়েন্টে চোরাকারবারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা সীমান্তে নিয়োজিত বিজিবি জোয়ানদের কাজে বারবার দায়িত্বে বাঁধার সৃষ্টি করছে। মুখোমুখি হচ্ছে বারবার। মঙ্গলবার রাতেও ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু কোনার পাড়া পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারে বাংলাদেশী পণ্য পাচারকালে বাঁধা দেয়ায় বিজিবি সদস্যদের উপর হামলা চালায় চোরাকারবারী দল। দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র সজ্জিত হয়ে এ হামলা চালায় তারা। ফলে অনেকটা কৌশলী হয়ে আত্মরক্ষার পাশাপাশি-চোরাচালানও ঠেকিয়ে দেয় বিজিবি। তারা এখন আইনি পথে হাটছে। বুধবার (৬ মে) সকালে ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এ সব তথ্য জানা যায়। তথ্য মতে,বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নতুন করে চোরাচালান বৃদ্ধি পায় নাইক্ষ্যংছড়ির ৮ টি পয়েন্টে । তন্মধ্যে কোনার পাড়া একটি । যেটি ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বাজার সংলগ্ন ৪৩ ও ৪৪ নম্বর সীমান্ত পিলার ঘেষা। এখানে দু'দেশে চলাচলে ছোট্র তুমব্রু খাল পার হতে হয়। যেখানে পানি থাকে হাটুর নিচে। আর বাংলাদেশ সরকার এ পয়েন্টে কাঁটাতারের কোন বেড়া দেয় নি এ পর্যন্ত। মিয়ানমারের দেয়া যে কাঁটাতার রযেছে, তাও ওপারের বিদ্রোহীরা নিজেরাই পথ বানিয়ে চোরাকারবারিদের আসা-যাওয়ার সুযোগ করে দিযেছে অনেক আগে থেকেই। কেননা এ কাঁটাতার নির্মান করছিল মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী। এখন জান্তার নিয়ন্ত্রনে এ সীমান্ত এলাকা নেই। আছে বিদ্রোহী আরকান আর্মি। এখন সেই বিদ্রোহী আরকান আর্মি সদস্যরা জান্তাদের বিমান হামলার ভয়ে এপারে পাড়ি দিতে এবং তাদের খাদ্য রশদ সংগ্রহ করতে এ কাঁটাতারের বেঁড়ার ফাঁকে ফাঁকে কেটে সরু পথ বানিয়ে চোরাকারবারিদের উৎসাহিত করে আসছে। যাতে নির্বিগ্ন তারা চোরাকারবার করতে পারে। সুত্র আরো জানান,এ সব ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বিজিবি কিছুটা বিব্রত হলেও নিরুপায় তারা। তবে নিজেদের দেশ থেকে পণ্য পাচারে যাবতীয় তৎপতা করে থাকে রাত-দিন । আর মিয়ানমার থেকে মাদক ও রোহিঙ্গা পারাপারেও সচেষ্ট বলে সুত্র নিশ্চিত করেন। এদিকে মঙ্গলবার রাতে তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে ঔষধ,সার,খাদ্যসামগ্রী সহ নানা ধরণের পণ্য পাচারকালে ৩৪ বিজিবির তুমব্রু বিওপির সদস্যরা বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চোরাচালান সিন্ডিকেট প্রধান আশরাফুল,মিজান ও জহিরের নেতৃত্বে একদল চোরাকারবারি হামলা চালায় বিজিবি সদস্যের উপর। দীর্ঘ ১ ঘন্টা ব্যাপী ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া,হাতাহাতি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চোরাকারবারীরা বিজিবিকে ব্যস্ত করে রাখে। বিজিবি শক্তি বাড়ায়। এ সময় চোরাকারবারি দল অন্ধকারে বিজিবিকে আঘাত করতে গিয়ে নিজেদের একজনের উপর লাঠির আঘাত করে বসে নিজেরাই। এতে চোরাকারবারি আশরাফুল মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হন বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে এ ঘটনায় অন্য কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এ মন তথ্য এ সংবাদ লেখাকাল অবধি পাওয়া যায় নি। এদিকে সীমান্তের ফুলতলী পয়েন্টেও বিজিবি সদস্যের উপর বেশ কয়েকবার হামলা করে চোরাকারবারি চক্র। এতে বিজিবি বাদী হয়ে প্রত্যেক ঘটনার বিপরীতে চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে মামলা করে বিজিবি। এ সব ঘটনার বিষয় ১১ বিজিবি কতৃপক্ষ নিশ্চিত করেন। তুমব্রু ঘটনার বিষয়ে ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে:কর্ণেল এস এম খাইরুল আলম বলেন,বিষয় নিয়ে বিজিবি ব্যবস্থা নিয়েছে। আইনি পথে হাটছে তারা। তিনি বলেন,সীমান্তে চোরাকারবারিদের ছাড় নেই। বিজিবি কঠোর অবস্থানে। টহল জোরদার করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ফয়জুল কবির বলেন,তিনি ঘটনার কথা শুনেছে তার অধিনস্থ ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ থেকে। তবে এখনও অভিযোগ পান নি তিনি। পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেবেন।