| ছবি: মাঈনুদ্দিন খালেদ
বাংলাদেশ-মিয়ানমার স্থল সীমান্তে একমাত্র মাধ্যম রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান কাজ শুরু হচ্ছে অবশেষে । লাখো যাত্রীর চোখের জলে প্রশাসন নড়ে চড়ে বসলে তৎপর হন ঠিকাদার। এছাড়া নানাভাবে লেখালেখি ও বাদ-প্রতিবাদের রোষানলে পড়ে ঠিকাদার ও অস্তস্তিতে পড়েন । সে সব কারণে তিনি নির্মান ক্যাম্প তথা ডিপোতে তৈরী ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত মালামালও আনা শুরু করেছেন গত ২ ধরে । ফলে সড়কের ৩ লাখ যাত্রীর শত কষ্টে জর্জরিত মনে স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তারা আশার আলো দেখছেন ঠিকাদারের এ সিদ্ধান্তে। বান্দরবান সড়ক বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো: সাখাওয়াত হোসেন বলেন,সড়কটি নিয়ে মেরণযন্ত্রনা কমবে আশা করছেন তিনি। তিনি বলেন, রামু- নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের ১২ কিলোমিটার অংশটি নতুনভাবে নির্মানের জন্যে ১৯৫ কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয় ধরে টেন্ডার হওয়ার পর অবশেষে কাজ শুরু হচ্ছে। ঠিকাদার তার নির্মান ক্যাম্প বা মালামাল রাখার ডিপো তৈরী করে মালামাল নেয়া শুরু করেছেন। তিনি আরো বলেন,সড়কটি পিচ ঢালাই অংশের প্রস্ত বর্তমান ১২ ফুটকে করা হবে ১৮ ফুট। সাইটের অংশ ৩ ফুট করে ৬ ফুট। মহিষকুম এলাকার বাঁকখালী ব্রীজের ব্রেইলী ব্রীজটি গার্ডার ব্রীজ করা সহ ৩ টি ব্রীজ নির্মান করা হবে এ কাজে। এছাড়া ১৬৮ মিটার তথা ৪২ টি কালভার্ট হবে এই ১২ কিলোমিটারেই। সড়কের ধরণ প্রসংঙ্গে তিনি বলেন,পানি জমে সড়ক ক্ষতিগ্রস্থ হয় এমন অংশে আরসিসি ঢালাই হবে। বাকী অংশ হবে পিচ ঢালাই। সূত্র মতে,প্রকৃতি ও পাহাড়ের ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রেখে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত রামু-নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কটি। বান্দরবান সড়ক বিভাগের অধীন ‘হোস্ট কমিউনিটি’র সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণ ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করছে বান্দরবান সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) যৌথ অর্থায়নে এই কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। সুত্র আরো জানান,প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের পর সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’-কে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এই প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পর কাজ শুরু হলো। এদিকে সড়কে ককসবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের ৪৫ টি খুটি রাস্তার পাশে থাকায় এ গুলো সরানোর বিষয়ে ককসবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গনি জানান,তার অধীনের বৈদ্যুতিক খুটি তিনি গাছ কাটার সাথে সাথে সরিয়ে ফেলবেন। একই কথা বলরেন রামু বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড আবাসিক প্রকৌশলী প্রদীপ কুমার মাহাতোও। তিনি বলেন,সড়কটি দুর্ভোগের স্বাক্ষী তিনি নিজেও। অপর দিকে সড়কের পাশে থাকা ও মার্ক করা হাজারাধিক গাছ কাটতে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজ শুরু না করায় বিদ্যুৎ বিভাগ খুঁটি সরাতে পারছেন না। আর সড়ক নির্মান কাজের ঠিকাদারও একই কারণে আজকালের মধ্যে কাজ শুরু করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। এদিকে সড়কের পুর্বপ্রান্তে বসবাসকারী লাখো ব্যবসায়ী,নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা প্রশাসন,বিজিবি,থানা পুলিশ সকল স্তরের কর্মকর্তারা বলেন, সড়কটি লাখো মানুষের দু:খ। যেন চীনের দু:খ হোয়ানহো। দীর্ঘদিন এ সড়কটির উপর গর্ত আর ছোট পুকুর হয়ে পড়ায় সড়কের গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়া পথে। এ সড়কে একবার কেউ গাড়িতে চড়লে দ্বিতীয়রা ফিরতে চায় না । সব কিছু পিছিয়ে পড়ছে একই কারণে। এই কারণেই সড়কের নির্মান কাজ শুরু হচ্ছে খবর ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র নতুন আশা হাতছানি দেখতে পাচ্ছেন ভূক্তভোগী যাত্রীসাধারণ। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ঘুচে স্বস্তিতে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে তারা।