| ছবি: মাঈনুদ্দিন খালেদ
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী আলীক্ষ্যং হাতির ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া মানব কঙ্কালের পরিচয় শনাক্তে সংশ্লিষ্ট নমুনা ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মোজাম্মেল হক। তিনি আরো জানান,ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার পর এ ম্যাসেজ দেশের সব পুলিশ স্টেশনে পাঠানো হবে। এর পর পরিচয় পাওয়া গেলে আইনী প্রক্রিয়া শুরু হবে। সূত্র জানায়- গত মঙ্গলবার ওই মানব কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয় ২৮০ নম্বর মৌজার বাইশারী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড সংলগ্ন আলীক্ষ্যং মৌজাস্থ ২নং বাইশারী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য জনাব নূর মোহাম্মদ (পুতু) মেম্বারের মালিকানাধীন রাবার বাগান থেকে। স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে প্রত্যক্ষদর্শী এ কঙ্কাল দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে আলীক্ষ্যং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঙ্কালটি উদ্ধার করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে অপহরণ করে নির্জন স্থানে এনে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। কঙ্কালটির অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর ঘটনা প্রায় ছয় মাস আগে ঘটেছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে একটি মাথার খুলি, পায়ের হাড়ের অংশ, এবং একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাগের ভেতরে একটি দাঁত ব্রাশ পাওয়া গেছে। তবে এখনো নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে পুলিশ পরিচয় সনাক্তে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। কঙ্কাল দাফন করতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। বুধবার বিকেলে এ কঙ্কাল দাফন করা হবে বলে জানান পুলিশ। এ বিষয়ে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের নবনিযুক্ত ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মনজুর বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি মানব কঙ্কাল উদ্ধার করেন । কঙ্কালটি ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠান। পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। বিষয় নিয়ে বান্দরবান পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার বলেন,কঙ্কাল উদ্ধারের পর পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করেছে। থানায় একটি জিডি করা হয়েছে। ময়না তদন্ত বা ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টের পর আরো ব্যাপকভাবে তদন্ত হবে। মূল খোলস বেরিয়ে আসবে।