প্রকাশ :: ... | ... | ...

সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিষ্ফোরণে দু'পা বিচ্ছিন্ন সেই  কাঠুরিয়ার প্রাণ গেল রক্তক্ষরণে


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগৃহীত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ল্যান্ডমাইন বিষ্ফোরণে দু'পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বাংলাদেশী এক বাঁশ কাঠুরিয়ার। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরের নাইক্ষ্যংছড়ি হাসপাতালে নেয়ার পথে রক্তক্ষরণে প্রাণ হারায় সে। কার নাম সাইফুল ইসলাম(২৮)। সে উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ির সাবের আহমদের ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার(২৪ আগষ্ট) সকাল ৯ টায় উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের পাইনছড়ি ৫২ পিলার এলাকার শূণ্যরেখায়। যে পয়েন্টে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্গন করে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি (এএ) ল্যান্ডমাইন বসিয়ে রাখে গোপনে। আর সেখানেই সাইফুল সহ ৬ কাঠুরিয়া কাঠ কাটতে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, সাইফুল তার অপর ২ ভাইসহ মোট ৬ কাঠুরিয়া বাঁশ কাটতে যায় সীমান্তের ৫২ পিলার এলাকার দড়দড়ি নামক এলাকায়। যেখানে কোন বেড়া বা সীমানা ছিল না। সে কারণে নিজের অজান্ত তারা শূণ্য রেখায় পৌঁছামাত্র বিকট শব্দে একটি মাইন বিষ্ফোরণে কাঠুরিয়া সাইফুলের ২ টি পায়ের গোড়ালি উড়ে যায়। তিনি আরো জানান,সঙ্গিরা তাকে কাঁদে করে নিয়ে আনে পাইনছড়ি স্টেশনে। তখন সকাল ১১ টা। আর সেখান থেকে নৌকা যোগে কালুর ঘাট। পরে ছোট ট্রাক( ডাম্পার) যোগে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করে। ডাক্তাররা জানান,অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী,মৃত সাইফুলের ভাই বাঁশ কাঠুরিয়া আজিজ মন্জুর আলম ও মোহাম্মদ তোহা জানান,সাইফুলের ২ সন্তান। তারা স্কুলে পড়ে। সে বাঁশ-গাছ কেটে জীবন নির্বাহ করেন। তাদের ভাইয়ের সাথে থাকলে তাদের পরিনতিও একই হতো। আল্লাহ তাদেরকে বাঁচিয়েছেন। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে,শূণ্যরেখা থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের মিয়ানমার অংশে ডুইল্যাঝিরি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের ওপর পা পড়লে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সাইফুলের দুই পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। তবে স্খানীয় রশিদ আহমদ ও মন্জুরুল আলম জানান,মূলত ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে অভ্যন্তরে।যা ৫৩ পিলার এলাকায়। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইসমাত জাহান ইতু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় অহেতুক ঘোরাফেরা না করার জন্য স্থানীয়দের নির্দেশনা দেয়া আছে। তবুও তারা যায়। যা কাম্য নয়। এ দিকে এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, জীবিকার প্রয়োজনে কেউ কেউ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বাঁশসহ বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতে যান। সেখানে ল্যান্ডমাইন ও সংঘাতের কারণে তাদের জীবন এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সীমান্তবর্তী বাংলাদেশি নাগরিকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ ঠেকাতে সচেতনতা বাড়ানো এবং নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।