প্রকাশ :: ... | ... | ...

ছোট্ট জায়হান আর ফিরল না; প্রতিবেশীর ঘরের পেছনে মিলল বস্তাবন্দি মরদেহ


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

পটিয়ার আকাশে যেন নেমে এসেছে শোকের ছায়া। যে শিশুকে খুঁজে পেতে গত দুই দিন ধরে আকুতি জানাচ্ছিল পরিবার, যে শিশুর জন্য মায়ের চোখের পানি থামছিল না, সেই পাঁচ বছরের ছোট্ট জায়হান আর জীবিত ফিরল না। চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল পূর্বপাড়া এলাকার গ্যারেজ মালিক শাহজাহানের একমাত্র সন্তান মো. জায়হান মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন হয়তো আশপাশেই কোথাও আছে। পরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি, এলাকার বিভিন্ন স্থান এমনকি বাড়ির সামনের পুকুরেও খোঁজ চালানো হয়। কিন্তু কোথাও মিলেনি শিশুটির সন্ধান। নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর পরিবারের ঘর থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করা হয়। সেখানে ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। চিঠিতে পরিবারকে হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বেঁধে ছিলেন মা-বাবা। কিন্তু সেই আশার প্রদীপ নিভে যায় বৃহস্পতিবার ভোরে। বাড়ির পাশের এক প্রতিবেশীর ঘরের পেছনে ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছোট্ট জায়হানের মরদেহ। স্থানীয়দের অভিযোগ, টাকার লোভে শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়। পরে ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তারাই আবার নিখোঁজ শিশুকে খোঁজার নাটকে পরিবারের সঙ্গে অংশ নিয়েছিল বলে দাবি স্বজনদের। জায়হান ছিল তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাড়িতে নেমে আসে শোকের মাতম। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা। তাদের বসতঘরের পেছনের ময়লার ভাগাড় থেকেই উদ্ধার করা হয় বস্তাবন্দি মরদেহ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিষ্পাপ ছোট্ট জায়হানের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো পটিয়া আজ শোকাহত। এলাকাবাসী জড়িতদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।