| ছবি: সংগ্রহীত
দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ায় পাঁচ বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু মো. জায়ানকে অপহরণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি অবস্থায় বাড়ির পেছনের পরিত্যক্ত ডোবায় ফেলে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় এখনও শোক ও ক্ষোভে স্তব্ধ পুরো এলাকা। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় নিহত শিশুর পরিবারের খোঁজখবর নিতে এবং তাদের সান্ত্বনা দিতে আজ শুক্রবার জুমার নামাজের আগে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দারখীল পূর্বপাড়া এলাকায় ছুটে যান সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। এ সময় তিনি নিহত জায়ানের বাবা-মা ও স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পরিবারের সদস্যদের কান্নাভেজা আহাজারিতে পরিবেশ হয়ে ওঠে ভারী ও আবেগঘন। এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমপি এনামুল হক এনাম বলেন, নিষ্পাপ শিশু জায়ানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। একটি শিশুকে অপহরণ করে এভাবে হত্যা করা কোনোভাবেই মানবিক সমাজে মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার পরপরই আমি জেলা পুলিশ সুপারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য আমি জেলা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, আমি আশা করি, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং আদালত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবেন। যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়। এসময় পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তার কোনো ছাড় নেই। পটিয়ার মাটিতে অপরাধ করে কেউ পার পাবে না। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ মামলার তদন্ত করছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, পটিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে খুব শিগগিরই বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হবে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে অপরাধ প্রতিরোধে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত পটিয়া গড়ে তোলা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছোট্ট জায়ানের নির্মম হত্যাকাণ্ড তাদের নাড়িয়ে দিয়েছে। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম, পটিয়া পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহবায়ক নুরুল ইসলাম সওদাগর, সাবেক সদস্য সচিব গাজী আবু তাহের, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক তৌহিদুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ফয়েজ, বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক, জাসাস নেতা নাছির উদ্দীন,নিহত শিশু জায়ানের পিতা মো. শাহজাহান, নানা শরীফ আলী, মামা জিসানসহ স্হানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু জায়ান। পরে পরিবারের কাছে মুক্তিপণের দাবি জানিয়ে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। ব্যাপক অনুসন্ধানের পর বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিষ্পাপ শিশু জায়ানের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো পটিয়ার হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। এখন এলাকাবাসীর একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হোক।