কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় জেলে কার্ড বিতরণ নিয়ে এবার খোদ ইউপির চেয়ারম্যানকে হেনস্তা করলেন একই ইউপির মেম্বার। রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে মগনামা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। হেনস্তার শিকার ইউনুস চৌধুরী মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। অভিযোগ উঠেছে একই ইউপির ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুর মুহাম্মদ চেয়ারম্যনকে হেনস্তা করেন। চেয়ারম্যানকে হেনস্তা ও গালমন্দের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনা সবার নজরে আসে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ এবং এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করেছে। খবর পেয়ে পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী বলেন, ৮ নং ওয়ার্ডে ২০৩ জন নিবন্ধিত কার্ডধারী ও তালিকাভুক্ত উপকারভোগী রয়েছে। গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মেম্বার নুর মুহাম্মদকে ১৮১জনের টোকেন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে সে টোকেনগুলো ফেরত দিয়েছে। ২২জনের টোকেন আমার কাছে ছিল। ওই ২২ জনের মধ্যে অনেকে বিদেশ চলে গেছে। কয়েকজন মারাও গেছে। আবার ৮-১০ জন বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। অতীতে এসমস্ত ব্যক্তিদের কার্ডগুলো নুর মুহাম্মদ নিজের হেফাজতে রেখে তাদের চালগুলো আত্মসাৎ করেছে। অতীতে প্রায় ১৫ জন ব্যক্তি চাল না পেয়ে আমাকে অভিযোগ করেছে। তাই এদের কার্ডগুলো নিজের কাছে রেখেছি যাতে করে তারা চালগুলো পায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি আমার কক্ষে বসে অফিসিয়াল কাজ করছি। এসময় হঠাৎ নুর মুহাম্মদ এসে তাকে বিশ্রি ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। এসময় প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ একাধিক মেম্বার উপস্থিত ছিল। তাকে অহেতুকভাবে হেনস্তা করেছে মেম্বার নুর মুহাম্মদ। প্রকাশ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। নুর মোহাম্মদ প্রতিবারই চাল বিতরণের সময় চালের কার্ড ভুক্তভোগীদের না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেছে। এলাকা থেকে চলে গেছে এমন কিছু অসহায় মানুষের কার্ড নিয়ে আত্মাসাৎ করতে চেয়েছে। কিন্তু আমি সেই অবৈধ সুযোগ না দেওয়ার কারণে আমাকে চরমভাবে হেনস্তা করেছে। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পেকুয়া থানা পুলিশের কাছে মুঠোফোনে জানিয়েছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, নুর মুহাম্মদ চেয়ারম্যানের কক্ষে ঢুকে চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্যে করে গালিগালাজ করছে। এ সময় তাকে উত্তেজিত দেখা যায়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দু রাজ্জাক ও ইউপি সদস্য মোকতার আহমদ তাকে নিবৃত করার চেষ্টা করছে এবং এক পর্যায়ে নুর মুহাম্মদকে চেয়ারম্যানের কক্ষ থেকে ঠেলে বের করে দিয়েছে। নুর মুহাম্মদ চলে যাওয়ার সময় বিশ্রি ভাষায় গালমন্দ করছে এমনকি দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। কয়েকজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কয়েক মাস আগেও পরিষদের কার্যালয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলমকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।পরিষদে তিনি সব সময় উশৃঙ্খলতা করছে। তারা এর সুষ্ঠু বিচার ও বিহীত ব্যবস্থার দাবি করেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নুর মুহাম্মদের জানান, জেলে কার্ড বিতরণে বরাদ্দ তালিকায় অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের কারণে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছে। আমি একজন ইউপি সদস্য হিসেবে আমাকে আমার প্রাপ্য অধিকার দেওয়া হচ্ছে না। আমার ওয়ার্ডে একজনকেও কার্ড দেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দু রাজ্জাক বলেন, চেয়ারম্যান ও একজন মেম্বারের মধ্যে সামান্য ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। আগামিকালকের মধ্যে এটা সমাধান হয়ে যাবে। পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম বলেন, ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে ইউনিয়ন পরিষদে পুলিশ পাঠিয়েছি। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।